রবিবার,১২ই জুলাই, ২০২০ ইং

বগুড়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

মুক্তখবর :
জুন ১, ২০২০
news-image

ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন ২০২০ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনা উপসর্গ নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর (১৯) মৃত্যু হয়েছে। তবে এলাকায় ওই গৃহবধূর মরদেহ দাফনে এলাকাবাসী বাধা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। রোববার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ওই নারীর মৃত্যু হয়।

সোমবার সকালে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার তাজপুরে গ্রামবাসীর বাধার মুখে একটি খাসজমিতে ওই গৃহবধূর মরদেহ দাফন করা হয়।

এ নিয়ে বগুড়া আইসোলেশনে ১১ জনের মৃত্যু হলো। তবে আগের ১০ জনের নমুনার পরীক্ষার ফল করোনা নেগেটিভ এসেছিল।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিট সূত্র জানায়, ওই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ি ঢাকায়। তিনি নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মো. মাসুদের মেয়ে। তিনি ৫ দিন আগে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

ওই গৃহবধূ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ৩১ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় সেখান থেকে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত নারী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হলেও গ্রামবাসীরা মরদেহ দাফনে বাধা দেয়। গৃহবধূর মা নিজ ভিটায় দাফনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

সোমবার সকাল ৭টার দিকে বদলগাছি থানার এসআই আরিফুল ইসলাম, অ্যাম্বুলেন্সচালক জাহিদুর রহমান বাড়ি থেকে দূরে রাস্তার পাশে খাসজমিতে ওই গৃহবধূর দাফন করেছেন।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়ার অর্গানাইজার মিজানুর রহমান জানান, রাতেই তার সংগঠনের নারী স্বেচ্ছাসেবকসহ ছয়জনের দল মৃতদেহকে ধর্মীয় বিধি অনুসারে দাফনের জন্য প্রস্তুত করেন। এর পর হাসপাতাল চত্বরে জানাজা সম্পন্ন করা হয়।

পরে দাফনের জন্য হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে বাপের বাড়ি নওগাঁর বদলগাছির তাজপুর গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বদলগাছি থানার এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের কারণে গ্রামাবাসীরা মরদেহ দাফনে বাধা দেন। তাদের কাছে কবরের জন্য জমি কিনতে চাওয়া হয়েছিল। পরে তাদের দেখিয়ে দেয়া খাসজমিতে দাফন করা হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী ঢাকা থেকে ফিরতে পারেননি; ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সহযোগিতা করা হয়।