শুক্রবার,১০ই জুলাই, ২০২০ ইং

সপ্তম দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

মুক্তখবর :
জুন ৩, ২০২০
news-image

ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুন ২০২০ (মুক্তখবর ডেস্ক) : কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় গত সোমবার সপ্তম দিনের মতো উত্তাল বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিক্ষোভ এসে পড়েছে হোয়াইট হাউসের সামনেও। ৪০টি শহরে কঠোর কারফিউ জারি করার পরও তা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিনও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। হোয়াইট হাউসসহ বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ছুড়তে দেখা গেছে। মিনেসোটা, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে বিক্ষোভ চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আর শিকাগোর সিসেরো এলাকায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

শহরের মুখপাত্র রে হানানিয়া জানিয়েছেন, সিসেরোর বাইরে থেকে আসা দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে কারফিউ শুরুর আগেই বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছিল। তবে টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে ওকল্যান্ডের পুলিশ বিভাগ দাবি করে, বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভঙ্গ করেছে। ৪০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করার কথা জানিয়েছে তারা।

মিনেসোটার সেন্ট পলের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যরা সোমবার রাতে অন্তত ৬৬ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা মিছিল করতে করতে গভর্নর ম্যানশন থেকে ক্যাপিটলের দিকে এগিয়ে যায়। তবে রাত ১০টায় কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও কিছু বিক্ষোভকারী অবস্থানস্থল ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট হচ্ছে উল্লেখ করে সোমবার বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান গভর্নর বিল দে ব্লাসিও। তিনি জানান, অনেকে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে লুটপাট করছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, অন্যকে আঘাত করছে।

রোববার রাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ফেডারেল পুলিশের চালানো দমন-পীড়নকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বৌসের।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সন্ধ্যা ৭টা থেকে কারফিউ জারি করেছিলাম। কিন্তু তার ২৫ মিনিট আগেই কোনো রকমের উসকানি ছাড়াই হোয়াইট হাউসের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরতদের ওপর পুলিশ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওয়াশিংটন পুলিশ বিভাগের কাজকে কঠিন করে তুলবে। এটা লজ্জাজনক।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে ফিরে নিরাপদে থাকার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন মুরিয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী মুখোমুখি অবস্থান সত্ত্বেও কিছু কিছু এলাকায় আবার পরস্পরের সংহতিও দেখা গেছে।

আটলান্টা, ডেনভার ও নিউইয়র্কে পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের জড়িয়ে ধরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার হাঁটু গেড়ে বসে ফ্লয়েডকে স্মরণ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছেন।

রোববার হোয়াইট হাউসের সামনে হাজার খানেকের বেশি বিক্ষোভকারী রাস্তার সাইন পোস্ট, প্লাস্টিকের ডিভাইডার, গাছের শুকনো ডাল জড়ো করে তাতে আগুন ধরায়।

এক বিক্ষোভকারী আবার তাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পতাকা ফেলে দেয়। হোয়াইট হাউসের সামনের গেটেও পাথর ও বোতল ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা। এরপর হোয়াইট হাউসের বাইরের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের পরামর্শদাতারা তাকে বলেছেন, তিনি যেন অবিলম্বে টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সেই পরামর্শ মানেননি। তিনি টুইট করে বলেছেন, ‘ডেমোক্রেট মেয়র ও গভর্নররা যেন কড়াভাবে বিক্ষোভের মোকাবিলা করেন।’
তবে রোববার তিনি অন্তরালেই থেকেছেন। হোয়াইট হাউসেও কর্মীদের বলে দেওয়া হয়েছে, বিক্ষোভ চলতে থাকলে তারা যেন না আসেন।

বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় পুলিশের অত্যাচারে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকে। তবে যত দিন যাচ্ছে, ততই বিক্ষোভ বাড়ছে। এই বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি বাধার মুখে পড়ছেন অনেক সাংবাদিকরা। গত তিন দিনে অন্তত ২৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

ফ্লয়েডের হত্যাকে ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বেজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রোববার লন্ডন, বার্লিন এবং টোরান্টোর মতো শহরেও বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ।

প্রসঙ্গত, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না।’