শনিবার,৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

বার্সাকে পেছনে ফেলে ফের শীর্ষে রিয়াল

মুক্তখবর :
জুন ২৫, ২০২০
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২০ (স্পোর্টস ডেস্ক): যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, গতিময় ফুটবলে আলো ছড়ালেন ভিনিসিউস জুনিয়র। তার হাত ধরেই এলো প্রথম গোল। দ্বিতীয়ার্ধে চমৎকার ফ্রি-কিকে ব্যবধান বাড়ালেন সের্হিও রামোস। মায়োর্কাকে হারিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর আবারও লিগ টেবিলের শীর্ষে ফিরল জিনেদিন জিদানের দল। আলফ্রেদো দি স্তেফানো স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে রিয়াল। শিরোপা লড়াইয়ের দুই দলের পয়েন্ট হলো সমান। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে পেছনে বার্সেলোনা।

এক দল খেলছে শিরোপার জন্য, আরেক পক্ষ লড়ছে টিকে থাকতে। পয়েন্ট টেবিলের বিস্তর ফারাক মাঠের লড়াইয়ে চোখে পড়ল না। বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও রিয়াল এগিয়ে ছিল বটে; তবে খুব বেশি নয়। গোলের জন্য স্বাগতিকদের নেওয়া ১৪ শটের ৬টি ছিল লক্ষ্যে, বিপরীতে সফরকারীদের ১১ শটের চারটি। তবে ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় জালের দেখা মেলেনি মায়ার্কার। লিগের শুরুর দিকে নবম রাউন্ডে এই মায়োর্কার মাঠেই প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছিল রিয়াল। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছিল ওই ম্যাচের স্বাগতিকরা।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের শুরুটা হয় রোমাঞ্চকর। সপ্তম মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দারুণ দুটি সুযোগ পায় রিয়াল। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে করিম বেনজেমার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ফেরান গোলরক্ষক। ফিরতি বল সতীর্থের পা ঘুরে পেয়ে যান চার মাসের বেশি সময় পর শুরুর একাদশে ফেরা বেল। তার দূরপাল্লার বুলেট গতির শটও ফিরিয়ে দেন রেইনা।

দশম মিনিটে থিবো কোর্তোয়ার দারুণ নৈপুণ্যে রিয়ালের জাল অক্ষত থাকে। ঘানার মিডফিল্ডার ইদ্রিসু বাবার দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের আঙুলের ছোঁয়ায় পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ষষ্ঠদশ মিনিটে ভালো জায়গায় বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন ভিনিসিউস। তিন মিনিট পর আর ব্যর্থ হননি তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। লুকা মদ্রিচের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।

২৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন ভিনিসিউস। বেনজেমার পাস ধরে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তার চিপ শট রেইনাকে ফাঁকি দিলেও ক্রসবার এড়াতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ১৯ বছর বয়সী ভিনিসিউস ছিলেন স্বরূপে। ৫১তম মিনিটে তার দারুণ পাস পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে হতাশ করেন বেনজেমা। পাঁচ মিনিট পর রামোসের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিয়াল। অধিনায়কের ডান পায়ের অসাধারণ ফ্রি-কিকে বল বাঁ পোস্টের ওপরের কোনা দিয়ে জালে জড়ায়। জায়গা থেকে নড়ার সুযোগ পাননি গোলরক্ষক রেইনা। ৫২৮ দিন পর ফ্রি-কিকে গোল করল রিয়াল।
এই নিয়ে টানা দুই ও ‘নতুন রূপে’ লিগ ফেরার পর চার ম্যাচের তিনটিতে জালের দেখা পেলেন রামোস। আসরে তার মোট গোল হলো আটটি, রিয়ালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ! দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৭ গোল বেনজেমার।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখাতে পারতেন ভিনিসিউসের বদলি নামা ব্রাহিম দিয়াস। তবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান রেইনা। লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফেরা মায়োর্কা একটা রেকর্ড গড়েছে। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে মাত্র ১৫ বছর ২১৯ দিন বয়সী লুকা রোমেরোকে মাঠে নামায় তারা; লা লিগার ইতিহাসে এর চেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় নেই। ৩১ ম্যাচে ২০ জয় ও আট ড্রয়ে রিয়ালের পয়েন্ট ৬৮। সমান ম্যাচে ২১ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্টও একই।