মঙ্গলবার,১৪ই জুলাই, ২০২০ ইং

করোনাভাইরাসে সাবেক ডেপুটি গভর্নর কাজেমীর মৃত্যু

মুক্তখবর :
জুন ২৭, ২০২০
news-image

শুক্রবার বিকাল ৫টা ৬মিনিটে এভার কেয়ার হাসপাতালে (সাবেক অ্যাপোলো) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে গেছেন। ছেলে দেশেই থাকেন। এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেক মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ইফতেহার হোসেন বলেন, “হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে ২২ জুন স্যার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২৩ জুন স্যারের কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। আজ বিকালে মারা যান তিনি।”

ইফতেখার জানান, শনিবার বেলা ১১টায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। আল্লাহ মালিক কাজেমী ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। এরপর ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ডেপুটি গভর্নর পদে থেকে নিয়মিত চাকরি শেষ করেন।

২০০৮ সালে তাকে চুক্তিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর কয়েক দফা তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই পদেই ছিলেন আল্লাহ মালিক কাজেমী। বৈদেশিক বাজার ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, তারল্য ব্যবস্থাপনা, মুদ্রানীতি প্রণয়নসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার বিচরণ ছিল।

ব্যাংক খাতের যেকোনো সমস্যা, নতুন নীতি প্রণয়নে তিনি পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরাও তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতেন। এর আগে ২২ জুন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক শেখ ফরিদ উদ্দিন সোয়াদ মারা যান। তি‌নি বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে কর্মরত ছি‌লেন।

আল্লাহ মালিক কাজেমীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, “তিনি শুধু একজন নিপাট ভালো মানুষ ও দক্ষ ব্যাংকারই ছিলেন না, ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। কী গভীর ছিল তার বহুমাত্রিক জ্ঞানের ভাণ্ডার তা অনেকেরই অজানা।কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত বিষয়ক এক চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া আল্লাহ মালিক কাজেমী এ সময়টায় চলে যাবার কারণে যে শূন্যতা তৈরি হল তা পূরণ হবার নয়।

“বিশেষ করে করোনাভাইরাসের এই কঠিন সংকট থেকে আমাদের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের এই দুঃসময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য তার প্রাজ্ঞ পরামর্শ কতটা প্রয়োজনীয় ছিল তা বলে শেষ করা যাবে না।”