বৃহস্পতিবার,৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

বাংলাদেশের বন্যার্তদের পাশে গ্রেটা থানবার্গ

মুক্তখবর :
জুলাই ৩০, ২০২০
news-image

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এক লাখ ইউরো দিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সাড়া জাগানো অধিকারকর্মী গ্রেটা থানবার্গ। চলতি মাসে পাওয়া ‘গুলবেনক্যিয়া প্রাইজ ফর হিউম্যানিটি’ পুরস্কার থেকে সুইডিশ কিশোরী এ অর্থের সংস্থান করেছেন। গতকাল বুধবার ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্যার্তদের জন্য ব্যয় করতে বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি করে চারটি সংস্থা সমপরিমাণ অর্থ পাবে।

ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ব্র্যাকের সঙ্গে রয়েছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, অ্যাকশনএইড ইন্ডিয়া ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গুঞ্জ’। চলমান বন্যা বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা প্লাবিত করেছে এবং প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত। মৌসুমি বন্যায় ভারতে এ পর্যন্ত ১১৩ জন মারা গেছে এবং প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।

সরকারি ত্রাণ পেয়ে বস্তা খুলে দেখছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চর সনপচা গ্রামের দুই নারী। সরকারি ত্রাণ পেয়ে বস্তা খুলে দেখছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চর সনপচা গ্রামের দুই নারী। ব্র্যাক জানিয়েছে, চলতি মাসের ২০ তারিখে ‘গুলবেনক্যিয়া প্রাইজ ফর হিউম্যানিটি’ পুরস্কার পান গ্রেটা, যার অর্থমূল্য ছিল ১০ লাখ

ইউরো। এই অর্থ পুরোটাই গ্রেটা থুনবার্গ ফাউন্ডেশন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কাজ করা দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশেষত ‘গ্লোবাল সাউথে’ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যয় করবে।

অর্থ-সহায়তার ঘোষণা দিতে গিয়ে গ্রেটা বলেন, জলবায়ু সমস্যা খুবই জরুরি একটি বিষয়। বিশেষত গ্লোবাল সাউথে বসবাসকারী মানুষেরা ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ গুরুতরভাবে ভুগছে। কোভিড-১৯ মহামারী ও সাইক্লোন আম্পানে যখন তারা বিপর্যস্ত, তখনই যুক্ত হয়েছে এ দুর্ভোগ। বিশ্ব-সংবাদমাধ্যম এ বন্যাকে উপেক্ষা করে চললেও দুর্গত এ মানুষগুলোকে সাহায্য করতে আমাদের সম্ভাব্য সবকিছুই করতে হবে। আমি সৌভাগ্যবান যে তাদের সাহায্য করতে নিজের পুরস্কারের অর্থগুলো এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিতে পারছি।

শুধু বাড়িঘরই নয়, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাটসহ বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতও। বহু কষ্টে চাষাবাদ করা এসব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত এসব এলাকার মানুষরা। ছবি : মোস্তাফিজুর রহমান শুধু বাড়িঘরই নয়, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাটসহ বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতও। বহু কষ্টে চাষাবাদ করা এসব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত এসব এলাকার মানুষরা। গ্রেটার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তহবিলের খুবই প্রয়োজন।

দেশ যখন সাইক্লোন আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এবং যখন কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে লাখ লাখ মানুষের উপার্জন ও খাদ্য-নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে, তখন এই অস্বাভাবিক দীর্ঘ বন্যা তাদের নতুন করে বিপদের মুখে ফেলেছে। এ তহবিলের মাধ্যমে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পৌঁছে দিতে পারব।