বৃহস্পতিবার,৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

এই মুক্তমঞ্চ থেকে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি কর্মীরা নবজাগৃতির সন্ধান পাবেন

মুক্তখবর :
জুলাই ৩০, ২০২০
news-image

মুক্তমঞ্চ উদ্বোধনকালে মেয়র-

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, এক সময় প্রাচ্যের রাণী হিসেবে পরিচিত ছিল চট্টগ্রাম। পাহাড়, সাগর, নদী এ তিনের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি। ধীরে ধীরে অপরূপ এ নগরীর জীবন-যাত্রা দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। নিধন হচ্ছে পাহাড়, দৈত্যাকার বিলবোর্ডে ঢেকে গিয়েছিল পুরো চট্টগ্রাম নগরী। মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ন, শহরমুখী মানুষের স্রোত, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং যেখানে-সেখানে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠাই এর মূল কারণ। আমি দায়িত ¡গ্রহণের পর থেকে চট্টগ্রামকে বিলবোর্ডের জঞ্জাল মুক্ত করেছি। সবুজায়নের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু নগরে সেবা সংস্থা সমূহের সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বিত হয়েছে। এরপরও আমার পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের ফলে বতর্মান চট্টগ্রামে মানুষ প্রাণ খুলে নিশ্বাস নিতে পারছে, ঘটেছে সবুজের সমারোহ। নগরবাসী এখন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দে রাস্তায় চলাফেরা ও নির্মল বিনোদন খুঁজে পেয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক পরিবেশ সমৃদ্ধ এ ধরনের শহর পৃথিবীতে বিরল। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম নগরকে সাজানোর লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত চট্টগ্রামে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে ও চসিকের সবুজায়ন প্রকল্পে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড,গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সড়কমোড়কে পরিবেশ সম্মত, সুদৃশ্য, দৃষ্টিনন্দন উন্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও নগরীর মোড়ে মোড়ে নান্দনিক ও আধুনিক সুবিধা সম্ব^লিত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও ডোর টু ডোর ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে রাস্তার ডাষ্টবিন অপসারণ করে যানজট মুক্ত পরিবেশ বান্ধব বিশ্বমানের বন্দর নগরী চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রয়াস চালিয়েছি। তিনি তার এ ভিশন বাস্তবায়নে নগরবাসী সহযোগিতা করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করে বলেন নগরবাসী এখন নির্মল ও দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্রের সন্ধান পাবে। বদলে যাবে চট্টগ্রাম শহরের পরিবেশ। দরকার শুধু সদিচ্ছা। সদিচ্ছা অন্তরে থাকলে চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য্যরে নগরী হবে। চট্টগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে লোক সংস্কৃতির চারণভূমি। এই চট্টগ্রামের মুক্তমঞ্চে প্রতিবাদী নাটক পরিবেশনা এবং এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। আমি প্রত্যাশা করি এই মুক্তমঞ্চ থেকে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি কর্মীরা নবজাগৃতির সন্ধান পাবেন। তিনি বলেন, কাজীর দেউড়ি আউটার স্টেডিয়াম এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের অবাধ বিচরণস্থল। ময়লা-আবর্জনা স্তূপ করা থাকতো এখানে। যে কারণে এ সড়কে পথচারীদের দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হতো। ইতোমধ্যে এই এলাকায় সুইমিং পুল, আউটার স্টেডিয়ামের ফুটপাত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় আসায় পথচারীদের আর নাকে রুমাল দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে না। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে স্টেডিয়ামের চারদিকে নয়নাভিরাম দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা নগরবাসীসহ যেকোনো অতিথিকে আকর্ষণ করবে। আজ সকালে আউটার স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে মাঠের চারদিকে ড্রেনসহ ওয়ার্কওয়ে, মুক্তমঞ্চ ও মাঠের সবুজায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য চসিকের অর্থায়নে ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পে রয়েছে আউটার স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে মাঠের চারদিকে ড্রেনসহ ওয়ার্কওয়ে নির্মাণ, মুক্তমঞ্চ নির্মাণ ও মাঠের সবুজায়নসহ আধুনিকায়ন এবং সাইফুদ্দিন খালেদ সড়ক থেকে নেভাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ । এ ছাড়াও রয়েছে আলোকায়ন ব্যবস্থা, মাঠের চারদিকে ফুট প্রশস্ত ওয়ার্কওয়ে, মাঠে উন্নতমানের ঘাস লাগানো, বাচ্চাদের খেলাধুলা এবং প্রতিবন্ধীদের হাঁটার সুব্যবস্থা। কাজের সুবিধার্থে তিন লটে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। লট -১’র আওতায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা, লট- ২’র আওতায় ১ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং লট -৩ ’র আওতায় ৭৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। মেয়র নির্মিত এই মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনা সহ সুস্থ বিনোদনে নগরবাসীর খোরাক মেটাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন, সলিম উল্লাহ বাচ্চু, শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক আহমেদ ইকবাল হায়দার চৌধুরী, চসিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুনিরুল হুদা, ঝুলন কুমার দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, উপ সহকারী প্রকৌশলী সুমন সেন, ও ঠিকাদার খায়রুল আব্বাস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হারুন উর রশিদ ।