বুধবার,২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজদিখানে চিকিৎসকের সংকটে সেবা ব্যাহত, ভোগান্তিতে সাধারণ জনগণ

মুক্তখবর :
এপ্রিল ১৩, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : সিরাজদীখানে চিকিৎসকের অভাবে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে। ডাক্তার সংকটের কারণে বৃহৎ এই জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার। কাগজে কলমে ২১ জন চিকিৎসক থাকলেও চিকিৎসক আছেন মাত্র ১১ জন। চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এ উপজলোর রোগিদের। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে দৈনিক ৫শ থেকে সাড়ে ৬শ রোগী সেবা নিতে আসেন। গরম মৌসুমে রোগীর সংখ্যা আরো বাড়ে। সুত্রে আরো জানায়, ৫০ শয্যার জন্য ডাক্তার প্রয়োজন ২১জন। বর্তমানে ১১ জন ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নাক কান গলা,ও কার্ডিওলজিষ্ট প্রেষনে আছেন। চর্ম, যৌন, চক্ষু ও হাড় জোড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ খালি রয়েছে। হাসপাতালটি জেলার ২ টি উপজেলার সীমান্তর্তী হওয়ায় পাশ্ববর্তী শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। সরজমিনে গেলে দেখা যায়, হাসপাতালটির মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা গেলো বর্হিবিভাগে চিকিৎনিতে আসা রোগিদের দীর্ঘ লাইন। বাহিরে লাইনে দাড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করছেন তারা। এসময় কয়েকজন রোগির সাথে কথা হলে তারা জানান, টিকেট সংগ্রহ করার জন্য হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে থেকেই তারা লাইনে দাড়িয়ে আছেন। হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রোগিদের উপচেপড়া ভির। প্রতিটা চিকিৎসকের কক্ষে রোগিদেরর দির্ঘ লাইন। সবচেয়ে বেশি ভির লক্ষকরা যায় শিশু কনসালটেন্টের কক্ষে। কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় ৩ থেকে ৪ জন রোগিকে এক সাথে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কক্ষের বাহিরে দীর্ঘসময় লাইনে দাড়িয়ে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে হাসপাতালের ভেতরে বেঞ্চে বসে আছেন। সেলিনা হোসেন নামে এক রোগীর সাথে কথা হলে তিনি জানায়, এখানে হৃদরোগ, সার্জারি, মেডিসিন, চর্মও যৌনসহ, নাক কান গলা, চোখ জন্য কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগিদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.বদিউজজ্জামান বলেন, ‘এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সমস্যাটা সবচেয়ে বেশী। চিকিৎসা সেবা চলমান রাখতে ২১জন চিকিৎসক দরকার । সেখানে সব মিলিয়ে চিকিৎসক আছে মাত্র ১১ জন। মাঝে মধ্যে রোগির অনেক চাপ থাকে । তখন সেবা দিতে হিমসীম খেতে হয় তাদের। তাই যে সমস্ত ডাক্তারদের পদগুলো শুন্য আছে সেখানে দ্রুত নিয়োগ দেতে প্রয়জন। যারা এখানে নিয়োগ নিয়ে অনত্র কাজ করছেন, তাদের হয় এখানে ফিরিয়ে আনা হউক, নয়ত তাদের পদগুলো শুন্য করে নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা করা হউক।’
জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: সুমন বণিক নয়াদিগন্তকে বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানের জন্য আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি । আমি নিজেও আমাদের পরিচালক মহোদয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি । আশা করছি খুব শীঘ্রই নতুন ডা: নিয়োগ হবে।’