সোমবার,১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাজুকে বার বার কল্যাণ ট্রাষ্টের সদস্য সচিব নিয়োগের রহস্য কী

মুক্তখবর :
এপ্রিল ১৬, ২০১৯
news-image

—-প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ চান শিক্ষক সমাজ
রোস্তম মল্লিক : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। তারা কিছুতেই এই নিয়োগকে মেনে নিতে পারছেন না। একই ব্যক্তিকে বার বার বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্টের সদস্য সচিব নিয়োগ দেওয়ার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখার জোর দাবী তুলেছেন তারা। সুত্রমতে, সরকার সমর্থিত অসংখ্য শিক্ষক নেতাকে অবাক করে দিয়ে গত ১০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে উপ সচিব মো: কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্টের সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ সাজাহান আলম সাজুকে চতুর্থবারের মত সদস্য সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষক সমাজ। সাথে সাথে তারা মৌখিক প্রতিবাদও জানান। কেন না-তাদের প্রত্যাশা ছিল যে-দীর্ঘ ৯ বছর পর এবার বুঝি নতুন কোন শিক্ষক নেতাকে সদস্য সচিব নিয়োগ দেওয়া হবে। যেহেতু অধ্যক্ষ সাজাহান সাজু পরপর ৩ বার ( ৯ বছর) একটানা নিয়োগ পেয়ে ক্ষমতায় থেকে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন সেহেতু এবার আর তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন শিক্ষা
সচিব মহোদয়। কিন্তু সবাইকে বিস্মিত করে গত ১০ এপ্রিল সেই অধ্যক্ষ সাজাহান সাজুকেই আবার ৩ বছরের জন্য পুণ:নিয়োগ দেওয়া হয়। কেবল সাজুকেই নয় তার দেওয়া তালিকামত অন্যান্য সদস্যদরকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যে তালিকায় সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি।
অভিযোগ আছে যে, অধ্যক্ষ সাজাহান আলম সাজু দীর্ঘ ৯ বছর বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্টের সদস্য সচিব থাকায় তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। নিজের ইচ্ছা খুশিমত নিয়ম জারি করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সীমাহীন হয়রানি করেন। এ ছাড়া নানা প্রকার অণিয়ম -দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকা নয়ছয় করেন। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রচুর অভিযোগ জমা পড়লেও অদৃশ্য কারণে সেগুলোর কোন তদন্ত হয়নি। তিনি ট্রাষ্টের গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে ও ভ্রমণ বিলাশে ব্যবহার করে সরকারের প্রচুর টাকা অপচয় করেছেন যা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের চেক প্রদানের ক্ষেত্রে ৫% থেকে ১০% কমিশন আদায় করে তবেই চেক প্রদান করতেন এমন গুন্জন রয়েছে। অন্য দিকে ট্রাষ্টের গাড়ী কেনা থেকে শুরু করে প্রতিটি কেনা কাটায় তিনি কমিশন খেয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের ফাইলপত্র নীরিক্ষা করলেই এসব অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে দাবী করা হয়েছে । এ দিকে সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনগুলোর সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই এই নিয়োগ দানের বিরুদ্ধে প্রধান মন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ কর্মসুচী দেবার ঘোষনা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এ প্রসংগে আলাপ করলে বেশ কয়েকজন সরকার সমর্থিত শিক্ষক নেতা বলেন, আমাদের কোন প্রকার মতামত না নিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের কাংখিত প্রত্যাশার মৃত্যু ঘটেছে। আমাদের প্রশ্ন-একজন ব্যক্তিকেই কেন বার বার এই পদে বসান হচ্ছে? সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে আর কী কোন যোগ্য নেতা নেই? তারা কি আওয়ামী লীগ করেন না? দলের জন্য তাদের কী কোন ত্যাগ বা অবদান নেই? সাজু সাহেব কি একাই আওয়ামী লীগ করেন? তিনি কী এমন মহৎ কাজ করেছেন যে বার বার তাকেই নিয়োগ দিতে হবে? তিনি একাই ১২ বছর ধরে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন আর বাকিরা তা চেয়ে চেয়ে দেখবেন তাতো হতে পারে না? আমরা তার এই নিয়োগ বাতিল চাই। একই সাথে নতুন কোন ত্যাগি ও আদর্শিক শিক্ষক নেতাকে নিয়োগ দানের দাবী জানাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।