মঙ্গলবার,২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

যমুনায় ভূট্টা চাষে লাভবান কৃষকরা

মুক্তখবর :
মে ৭, ২০১৯
news-image

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : বিস্তীর্ণ যমুনা চরাঞ্চচল, চারদিকে ধূ-ধূ বালু চর। এ চরাঞ্চচলে দু’চোখ যে দিকে যায় চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজে সমারোহ প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্যের চিত্র ফুটেছিল দু’মাস আগে। বর্তমানে জমি থেকে ভূট্টা ওঠানো চলছে। সহযোগিতা করছে গ্রামীণ নারীরাও। তবে বেশীর ভাগই মেশিনে ভূট্টা মাড়াই করা হয়। ভূট্টা চাষিরা বলছে এ বছর ভূট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বড় দু’চিন্তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে। শুধু ভূট্টাই নয়। রয়েছে অন্যান্য সোনার রবি ফসলও। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর অংশে উপজেলার চরাঞ্চলের গাবসারা, নিকরাইল ও অর্জুনা ইউনিয়ন এলাকায় ভূট্টার চাষাবাদ করা হয়েছে। গাবসারা চরাঞ্চলে গতবারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্থবছর ২০১৮-১৯ সালে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভাল হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর অংশে উপজেলার চরাঞ্চলে জেগে ওঠা চরের প্রতিটি জমিতে ভূট্টা লাগানো হয়েছিল। ভূট্টাগুলো গাছ থেকে উঠিয়ে দরিদ্র নারীরা দিন মজুরি হিসেবে কাজ করছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও আনন্দে কাজ করছে। কড়া রোদকে উপেক্ষা করে তাদের বর্তমান সময়ের প্রধান অর্থকরি ফসল ঘরে তুলছে। কেউ ভূট্টা রোদে শুকানোর কাজ করছে। কেউ গাছ থেকে ভূট্টার ছড়াগুলো মেশিনের সাহায্যে মাড়াচ্ছে। গাবসার ইউনিয়নের গোবিন্দপুরের ভূট্টা চাষি মো. আব্দুল আলিম বলেন- গতবারের ভূট্টা চাষে অনেকেই লাভবান হয়েছে। তাই তাদের দেখে ও পরামর্শে প্রথমবারের মত ৫ বিঘা জমিতে ভূট্টা চাষ করেছি। তার কাছে খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন- অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভূট্টা চাষে খুবই খরচ কম হয়েছে। সার, জমি চাষ, পানি সেচ, শ্রমিক খরচ ও বীজ কেনা বাবদ এ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। যা ধান চাষের তুলনায় প্রায় অর্ধেক খরচ। প্রতি বিঘা জমিতে তার লক্ষ্যমাত্রা ৩২-৩৬ মণ ভূট্টা হয়। গাবসারা ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক মো. হামেদ আলী জানান, গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে ভূট্টা চাষ করেছি। বিঘাতে ভূট্টার ফলন ৩৫ মণ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে ভূট্টা চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে সময়মত সার-বীজ ও কীটনাশক পেয়েছি। সরেজমিনে ভূট্টা চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহে উপজেলার গোবিন্দাসীতে দু’দিন হাট বসে। রবিবার ও বৃহস্পতিবার। সকাল থেকে এ হাট শুরু হয়। ঘোড়ার গাড়ি ও ট্রাক্টরে পরিবহন করে শত শত মণ ভূট্টা হাটে নিয়ে দ্রুত সময়ে পাইকারি বিক্রি করা যায়। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, ১ বিঘা জমিতে চরঞ্চলে ধান চাষ করলে ১২ থেকে ১৫ মণ ধান হয় অপর দিকে ১ বিঘা জমিতে ভূট্টা হয় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। দামেও তেমন পার্থক্য নেই। ১ মণ ধানের দাম ৬শ থেকে ৮শ টাকা। ভূট্টা চাষে কীটনাশক ও সারের ব্যবহারও সীমিত। অন্যান্য রবি শস্যের চেয়ে ভূট্টার ফলন বেশি। তাছাড়া সহজে আবাদযোগ্য এবং অধিক লাভজনক হওয়ায় ভূট্টা চাষে কৃষকরা বেশি আগ্রহী। তাছাড়া ব্রয়লার, লেয়ার ও মাছের ফিড হিসেবে চাহিদা ব্যাপক। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন- উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্য ফসলের চেয়ে ভূট্টাকে এখন একমাত্র ও প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছে। ভূট্টা চাষ অধিক লাভজনক একটি ফসল। প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সার্বিক সহযোগিতা করেছে। আমাদের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে কৃষকদেরকে সার্বিকভাবে পরামর্শ দিয়েছেন।