মঙ্গলবার,৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুর সীমান্তে বাঁশ শিল্পের জনপ্রিয়তা বেড়েছে

মুক্তখবর :
মে ৭, ২০১৯
news-image

শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: শেরপুর সীমান্তে বর্ষা ও মৌসুমীয় প্রয়োজনে বাঁশ শিল্পের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বর্তমানে চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটাই-মাড়াই চলছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার জন্য বাঁশের তৈরী বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা রয়েছে। তাই অত্রাঞ্চলের বাঁশশিল্পের চাহিদা বেড়েছে এবং বাজার ভাল থাকায় তারা ভাল লাভবান হচ্ছে। এতে অত্র এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সমূহের চাহিদায় যোগান দিচ্ছে। উল্লেখ্য, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সিংহভাগ লোক কৃষক, শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষ। শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা কৃষকের কৃষি কাজে শ্রম বিক্রি করে জীবন-জীবিকা চালায়। কিন্তু বছর জুড়েই কৃষকের কৃষি কাজ থাকে না। কৃষকের কাজ না থাকলে শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা বেকার হয়ে থাকে। তাই এই শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা জীবন-জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কাজে আত্মনিয়োগ করে জীবন পরিচালনা করছে। অত্র জেলায় প্রায় ৫০টিরও বেশী গ্রামে বাঁশ ও বেতশিল্পের কাজ করে। উক্ত পেশায় নিযুক্ত হয়ে শত শত পরিবারে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা। যেখানে নি¤œ আয়ের মানুষেরা স্ব-পরিবারে জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে বাঁশ ও বেতের তৈরী ডুল, ধারাই, বের, খাঁচা, চালুন, কোলা, মাছ ধরার পল, বুরুং, ধলই, হেংঙ্গা, চাটাই, হাতপাখা, ভাইর আরও নানা প্রকারের সামগ্রী তৈরীর কাজ। বর্তমানে এইসমস্ত সামগ্রী বাজারে চাহিদা থাকায় ভাল দামে বিক্রি করতে পারছে। এই সমস্ত সামগ্রী বিক্রি করে তাদের সংসারে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলত। প্রতি পিছ ডুল ৫০/৬০ টাকা, ধারাই ২শ থেকে আড়াই শ টাকা, চালুন ৪০/৫০ টাকা, ১টি বের ৫/৬শ টাকা, প্রতিটি খাঁচা ৯০ থেকে ১শ টাকাসহ বিভিন্ন সাইজের উপর ভিত্তি করে দাম কম বেশী মূলে বিক্রি করা হয়। পরিবেশ বান্ধব এই ধরণের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে না, তেমনি পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিকের ব্যবহারও হৃাস পেয়েছে।
দেড়শ থেকে ২শ টাকা মূল্যের বাঁশ দিয়ে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার টাকার বাঁেশর সামগ্রী তৈরী করা যায়। ফলে বাঁশ শিল্পীরা পরিবারের লোকজন নিয়ে প্রতিদিন হাজার টাকা আয় করে থাকে। উক্ত টাকা দিয়ে তাদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আরও টাকা সঞ্চয় থাকে।

স্থানীয় বাঁশ শিল্প তৈরীর মালিক আলাল মিয়া জানান, বর্তমান বাজারে বাঁশ ও বেতের তৈরী সামগ্রীর চাহিদা বেশী। তাই বহু বেকার ও নি¤œ আয়ের লোকেরা এ পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। উক্ত পেশায় নিয়োজিত বহু পরিবার এখন এই ব্যবসায় নেমেছেন। উল্লেখ্য, এই শিল্পের চাহিদা কম থাকলে এই সমস্ত বাঁশ ও বেত শিল্পী শ্রমিকরা তখন আগর শলা তুলে থাকেন এবং এই সমস্ত আগর শলাকা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে রপ্তানী করে থাকে। তবে এই পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকরা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও বড় আকারে এই শিল্পকে তুলে ধরা যেত। এতে বেকার শ্রমিকরা পেত কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ দূষন প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরীর পথ উন্মুক্ত হত।