সোমবার,২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই, ওয়াসাকে হাইকোর্ট

মুক্তখবর :
জুলাই ২৪, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার): ‘তারা (ওয়াসা) যদি সমস্যা সমাধান করতে পারে, তাহলে ভালো। আমাদের দরকার পানি, বিশুদ্ধ পানি। আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই।’ ওয়াসার পানির দূষণ নিয়ে শুনানিতে আজ বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালতে ওয়াসার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাসুম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। পানি পরীক্ষায় আদালতের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন গত ৭ জুলাই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেই প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের পানিতেই ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত এ প্রতিবেদন সম্পর্কে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য আজকে শুনানির দিন রাখেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ মামলাটি কার্যতালিকায় আসে শুনানিতে ওয়াসার আইনজীবী এ এম মাসুম বলেন, ‘সমন্বিত পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পানিতে ফেকাল কলির্ফম পাওয়া গিয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করছি। সেই সুপারিশ অনুসারে আইসিসিডিআর,বি ও বুয়েটে আমাদের পানি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পাতলা খান লেনের পানি পরীক্ষার প্রতিবেদন পেয়েছি। মিরপুরের পানি পরীক্ষার প্রতিবেদন রোববার পাব।’

এ সময় রিটের পক্ষের আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, আদালতের আদেশের পরে পানি পরীক্ষার জন্য কমিটি গঠন করতে তিন মাস সময় লেগেছিল। আজকে প্রতিবেদনের ওপর জবাব দাখিলের কথা ছিল। তখন ওয়াসার আইনজীবী বলেন, একটা প্রতিবেদন হাতে এসেছে। মিরপুরেরটা রোববার আসবে। আসলে প্রতিবেদন দিয়ে দেব। এ সময় আদালত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা (ওয়াসা) যদি সমস্যা সমাধান করতে পারে, তাহলে ভালো। আমাদের দরকার পানি, বিশুদ্ধ পানি। আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই। এটা নিশ্চিত করতে পারলে ভালো।’

এরপর আদালত পরবর্তী সময়ের শুনানির জন্য ৩০ জুলাই দিন রাখেন। পানি পরীক্ষার সমন্বিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের পানিতেই ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কমিটি ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের বিভিন্ন এলাকা থেকে দৈবচয়ন ও দূষণের অভিযোগ রয়েছে এমন ৩৪টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে আটটি নমুনায় ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিতরণ জোন-১-এর পুরান ঢাকার পাতলাখান লেন, ৪-এর মিরপুরের কাজীপাড়া ও বিতরণ জোন-৭-এর শনির আখড়া, ধনিয়া থেকে সংগ্রহ করা পানিতে কলিফর্ম পাওয়া গেছে। ১৬ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে পানি পরীক্ষাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার লিংকে (হটলাইন) গত তিন মাসে ময়লা পানির অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে ১০টি জোনের ৫৯ এলাকায় ময়লা পানির প্রবণতা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ মে পানি পরীক্ষা কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআর,বির ল্যাবে পানির বিভিন্ন প্যারামিটারের মূল্যহার একীভূত করে মোট বাজেট সংযুক্ত করা হলো। বাজেটে বলা হয়, এই ১০টি জোনের প্রতিটি এলাকা থেকে ৩৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ফলে মোট নমুনার সংখ্যা দাঁড়াবে এক হাজার ৬৫টি। এই নমুনাগুলোর তিনটি ল্যাবরেটরিতে রোগজীবাণু ও ভৌত রাসায়নিক সংক্রান্ত পরীক্ষা করতে খরচ হবে মোট ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা।

এ প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে মতামত শুনতে ওই কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের (মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট) চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানকে আদালতে আসতে বলেন। এ আদেশ অনুসারে অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ২১ মে হাইকোর্টে বক্তব্য দেন। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করার আদেশ দেন।

গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা হলেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনিরুল আলম, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সাবিতা রিজওয়ানা রহমান।