সোমবার,১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নরসিংদীর মানুষের মরণফাঁদ সড়কের মরা গাছ

মুক্তখবর :
নভেম্বর ২, ২০১৯
news-image
নরসিংদী প্রতিবেদক : নরসিংদীতে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে দু’টি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকশ’ মরা গাছ। সামান্য ঝড়-বাতাসেই এসব গাছ ভেঙে দুর্ঘটনায় পড়ছেন পথচারীরা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। দুর্ঘটনা রোধে এসব ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ কেটে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের। তবে, টেন্ডারের মাধ্যমে মরা গাছগুলো কাটা হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সওজ সূত্রে জানা যায়, শিবপুর ও মনোহরদী উপজেলার ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক মহাসড়কের ইটাখোলা থেকে মনোহরদী ও পলাশ উপজেলার পাঁচদোনা মোড় থেকে চরসিন্ধু সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় চারশ’ মৃত-অর্ধমৃত গাছ। জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের লাগানো শিশু প্রজাতির এসব গাছ অনেকদিন আগেই মারা গেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো সামান্য বাতাস বা ঝড়েই ভেঙে পড়ছে। এতে দুর্ঘটনায় পড়ছে পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন। গত জুলাইয়ে শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল হাসান খান কলেজে থেকে বাড়ি ফেরার সময় বান্দারদিয়া এলাকায় একটি মরা গাছ ভেঙে হঠাৎ তার মাথার উপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। শিবপুরের বাজনাবর এলাকার বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বলেন, ইটাখলা মঠখলা আঞ্চলিক মহাসড়ক সবসময় ব্যস্ত থাকে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বহু গাড়ি ঢাকায় আসা-যাওয়া করে। কিন্তু, মরা গাছের কারণে যানবাহন ও পথচারীদের আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এসব গাছ শিগগিরই কেটে নেওয়া উচিত। ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাসচালক আলম মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, যখন-তখন গাছ ও গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের গাড়ি চালাতে হচ্ছে। গাছ ভেঙে সড়কের ওপর পড়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যানচলাচল। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো যেন মরণফাঁদ। মরা গাছের কারণে দুর্ঘটনা ঘটায় দ্রুত এসব গাছ কেটে নেওয়ার দাবি জানাই। মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকার বাসিন্দা আকবর আহমেদ বলেন, সড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। কখন জানি মরা গাছ ভেঙে আমাদের উপর পড়ে! আমরা শিগগিরই সড়কের পাশে মরা গাছগুলো কেটে সেখানে বিভিন্ন উপকারী গাছ লাগানোর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই। এ বিষয়ে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, সড়কের পাশে মরা গাছগুলোর মধ্যে কিছু গাছ জেলা পরিষদের, আর বাকি গাছ সড়ক ও জনপদ বিভাগের মালিকাধীন। ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে শিগগিরই মরা গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। টেন্ডারের জন্য এরই মধ্যে গাছগুলো জরিপ করা হয়েছে। মরা গাছের জায়গায় নতুন করে গাছের চারা রোপণেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।