রবিবার,২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষার্থী ধরে রাখতে কোচিং চালু রেখেছি

মুক্তখবর :
নভেম্বর ৪, ২০১৯
news-image

এস আলম ও এম আলম : সরকারের নির্দেশনার পরও ময়মনসিংহে বন্ধ হয়নি অধিকাংশ কোচিং সেন্টার। কোচিং পরিচালকরা বলছেন শিক্ষার্থী ধরে রাখতে তারা কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন বলছেন কোচিং সেন্টার বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে। জেএসসি পরীক্ষা চলাকালিন ময়মনসিংহ নগরীর কোচিং সেন্টার খ্যাত বাউন্ডারী রোড, নাহা রোড, জিলা স্কুল রোড এবং সাহেব আলী রোডে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ কোচিং সেন্টার চালু রয়েছে। তবে গেল কয়েকদিনে জেলা প্রশাসন কণিকা ক্যাডেট কোচিংয়ের পরিচালক মাহবুবুল আলমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ দিনের জেল এবং কয়েকটি কোচিং সেন্টার সিলগালাসহ জরিমানা করায় অনেকেই কোচিং বন্ধ রেখেছেন। সাড়া বাংলা বিদ্যা কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, স্কুলে ভালো পড়াশোনা হয় না। তাই আমার কোচিং সেন্টারে জিলা স্কুল এবং বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। সকালে কয়েকটি ব্যাচের মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন আমি দীর্ঘদিন ধরে কোচিংয়ের সাথে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে কোচিং বাণিজ্যে অনেক শিক্ষক জড়িয়ে পড়েছে। তাই অনেক শিক্ষার্থী ভালো মন্দ না বুঝে অনেক শিক্ষকের কাছে চলে যাচ্ছে। তাই কোচিং সেন্টার বন্ধে সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরেও শিক্ষার্থী ধরে রাখতে রিস্ক নিয়ে পড়াচ্ছি। বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাবাসুম, আবা আরিফিন তিমা এবং মাহমুদা সুলতানা রিয়া বলেন, আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা ২৭ নভেম্বর থেকে। তাই কোর্স সম্পূর্ণ না হওয়ায় মোখলেছ স্যার বলছে কোচিংয়ে আসার জন্য তাই আসছি। স্যার বললে আমাদের বাধ্য হয়েই আসতে হয়। কোচিং বন্ধ করে দিলে আমরা আসবনা। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আশরাফ জামান এবং সুরাইয়া শারমিন বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনার উপর শ্রদ্ধাশীল। কোচিং খোলা রাখলে আমার মেয়ে না আসলে অন্যের মেয়ে আসবে। তাহলে আমার মেয়ে ওই বিষয়ে পিছিয়ে পড়বে। তাই বাধ্য হয়ে মেয়েকে নিয়ে আসতে হইচে। স্যার না করে দিলে আর আসব না। বাউন্ডারী রোডে নিজ বাসায় কোচিং করাচ্ছেন আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক একেএম মাকসুদুল আলম। তিনি বলেন, সামনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা। তাই তাদের কথা চিন্তা করে আমি কোচিং করাচ্ছি। এতে অন্যায়ের কিছু দেখছি না। আমি কোচিং করায় সেটা আমার কর্তৃপক্ষও জানে। মুমিনুন্নিসা সরকারী মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, পরীক্ষার কিছুদিন বাকি রয়েছে। আমাদের কোর্সও শেষ হয়নি। তাই স্যারের কাছে আমরা বিষয়টি বুঝে নিচ্ছি। বাউন্ডারী রোডে অগ্রণী কিন্ডার গার্টেনের আড়ালে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জিলা স্কুল, বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে। হাসান মেহেদী ও মানিকা আনঞ্জুম নামে এই দুই শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য এখানে কোচিং করছি। স্যাররা আমাদের বলছে কোচিং বিষয়ে কারো সাথে কথা না বলতে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, কোচিং নয় আমরা কিন্ডার গার্টেন হিসেবেই এখানে ক্লাশ নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি চেষ্টা করছে। তাই এমনটি হয়তো বলেছে। সাহেব আলী রোডে নিজের নামেই প্রতিষ্ঠিত হোসেন আলী ক্যাডেট কোচিং সেন্টারের পরিচালক হোসেন আলী বলেন, ছাত্র রাজনীতি করার পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পূর্ণ করে সুনামের সহিত কোচিং পরিচালনা করে যাচ্ছি। প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা আমাকে এক নামেই চিনে। তাদের বাচ্চারাও আমার কাছে পড়াশোনা করে। তাই নিউজ করে কোন লাভ নেই। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোচিং সেন্টার বন্ধে মাঠ পর্যায়ে আমাদের মনিটরিং টিম কাজ করছে। ইতিমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে কয়েকটি কোচিং সেন্টার সিলগালা, জরিমানা ও একজনকে সাজাও প্রদান করা হয়েছে। এখনও যদি কেউ সরকারী সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে কোচিং পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধেও কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে।