বুধবার,২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রস্তুত ৫ উদ্ধারকারী জাহাজ

মুক্তখবর :
নভেম্বর ৯, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আজ শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে। এ জন্য খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জনপদে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য খুলনা নৌঘাঁটি তিতুমীরে পাঁচটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে খুলনা এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় উপজেলা কয়রা ও দাকোপে আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ যেতে শুরু করেছে। উপকূলীয় এলাকায় অবিরাম মাইকিং করা হচ্ছে।

এ ছাড়া খুলনায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর আঘাত থেকে রক্ষা করতে এরই মধ্যে খুলনার সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, এরই মধ্যে যেসব পর্যটক ও জেলে সুন্দরবনে রয়েছেন বা আটকা পড়েছেন, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ সুন্দরবন তথা খুলনা উপকূলে আঘাত করতে পারে। এজন্য আজ সকালে ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে জারি করা ২২ নম্বর বিশেষ বার্তায়, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া কার্যালয়। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, এরই মধ্যে গতিবেগ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর। একে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার ছিল, এখন সেটি ১৩০ কিলোমিটারে গিয়ে ঠেকেছে। দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ তা ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পাঁচ থেকে সাত ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের পক্ষ থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রকাশিত ২৩ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ শনিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুন্দরবন প্রায় সারা বছরই জনমানবশুন্য থাকে। কিন্তু প্রতি বছর ১ নভেম্বর হতে সাগরে মাছ ধরার জন্য প্রায় ৫০ হাজার জেলে বৈধ অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে অস্থায়ী জেলেপল্লি নির্মাণ করে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার জেলে অনুমতি নিয়ে বনে প্রবেশ করেছেন। তাঁরা দুবলারচর, আলোরকোল, মাঝিরচর, বকচর, কটকাসহ বিভিন্ন চরে মাছ ধরে শুঁটকিতে রূপান্তর করেন। অতীতে বিভিন্ন ঝড়ের সময় দেখা গেছে, এসব জেলেপল্লিতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানীর সংখ্যা বেশি ছিল। এসব জেলেকে গতকাল রাতেই বনবিভাগের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে।

দুবলারচর ফিশারম্যান গ্রুপের নেতা শামীম আহসান বলেন, রাশমেলায় যোগদানের জন্য দেশি-বিদেশি পর্যাটকদের নিয়ে ৩০টির মতো নৌযান সুন্দরবনে নিরাপদ অশ্রয়ে রয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে ট্যুর অপারেটরা নিয়মিত যোগোযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন ট্যুর অপারেটর মালিক সমিতির সভাপতি মঈন জমাদ্দার। তিনি আরো বলেন, এর মধ্যে একটি নৌযানে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীরা রয়েছেন।

এদিকে খুলনা মহানগরীতে সিটি করপোরেশন মাইকিং করে সড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করছে।