সোমবার,১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট কে এই গোতাবায়া?

মুক্তখবর :
নভেম্বর ১৮, ২০১৯
news-image

ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ (মুক্তখবর ডেস্ক) : ফের শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় রাজাপাকসে পরিবার। শনিবার অনুষ্ঠিত দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। বর্তমানে তার বয়স ৭০ বছর। সোমবার শ্রীলঙ্কার সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

কে এই গোতাবায়া?

গোতাবায়া হলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই। ভাইয়ের শাসনামলে গোতাবায়া ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। আর এই অভিযানের নিদের্শনায় ছিলেন তার বড় ভাই ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে।
এই অভিযানের ফলেই তামিলদের পরাজয় ঘটেছিল এবং তামিল নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ নিহত হন।

তামিলদের বিরুদ্ধে গোতাবায়ার এমন অভিযানের জন্য তাকে ডেথ স্কোয়াডের ‘উদ্ভাবক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তামিলদের নির্মমভাবে হত্যা-নির্যাতনের কারণে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে।

২০০৯ সালে গোতাবায়ার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার একজন সুপরিচিত সম্পাদককে হত্যার অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক আদালতে গোতাবায়ার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করা হয়। মাহিন্দার আমলে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম ও স্বাধীন সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ মামলা দু’টি করা হয়।

গোতাবায়া রাজাপাকসের ছিল দ্বৈত নাগরিকত্ব। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল করেন তিনি। তবে কলম্বোভিত্তিক দুইজন কর্মী গোতাবায়ার শ্রীলঙ্কান নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করেছেন।

এদিকে, গোতাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসের এক দশকের (২০০৫-১৫) দীর্ঘ শাসনামল ছিল নির্লজ্জ স্বজনপ্রীতি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তার চার ভাই সরকারের বেশির ভাগ মন্ত্রণালয় ও সরকারি অর্থের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। ভাইয়ের পুরো শাসনামলে প্রতিরক্ষা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন গোতাবায়া।

আরেক ভাই বাসিল রাজাপাকসে বড় ভাই মাহিন্দার উপদেষ্টা ও অর্থমন্ত্রী (২০১০-১৫) ছিলেন। ছোট ভাই ছামাল রাজাপাকসে ২০১০-১৫ সালে শ্রীলংকার পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন।

ভাইদের ক্ষমতায় ভাগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন মাহিন্দা। তৃতীয় দফা নির্বাচনে ২০১৫ সালে মাইথ্রিপালা সিরিসেনার কাছে পরাজিত হন। এরপরও ক্ষমতায় ফিরতে সিরিসেনাকে ‘বন্ধু’ বানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন মাহিন্দা।

গত বছর ‘প্রেসিডেন্ট ক্যু’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে রাজাপাকসের সেই স্বপ্ন পূরণের সব রকম চেষ্টা করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। ৫০ দিনের (২৬ অক্টোবর-১৫ ডিসেম্বর) জন্য প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। পরে সুপ্রিমকোর্টের হস্তক্ষেপে তার স্বপ্ন ভেস্তে যায়।

দুই বারের বেশি প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিষিদ্ধ হওয়ার সংসদীয় আইনের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়ে মাহিন্দার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন। কিন্তু ভাইদের এ পদে এনে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ানোর কৌশল হাতে রয়ে যায়। ফলে প্রার্থী করেন ভাই গোতাবায়াকে।

এজন্য গোতাবায়া নিজের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেন, যাতে তার প্রার্থী হওয়ার পথে কোনও বাধা না থাকে। এখন গোতাবায়া ভাইয়ের ক্ষয়িষ্ণু দাপট আবারও বাঁচিয়ে তুলবেন এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন শ্রীলংকায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে চলমান দুটি মামলা থেকে দায়মুক্তি পেতে পারেন।