বুধবার,২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

স্বস্তি ফিরছে না শীতের সবজিতে

মুক্তখবর :
ডিসেম্বর ২১, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ (অর্থনৈতিক ডেস্ক) : পেঁয়াজ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ডের পর খানিকটা স্বস্তি এনেছিল নতুন দেশি পেঁয়াজ। দামও কমেছিল। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে দাম আবার বেড়েছে। এ সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না থাকলেও ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় হতাশ সাধারণ ভোক্তা ও ক্রেতা।

অন্যদিকে শীত বাড়লেও কমছে না সবজির দাম। গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পাইকারি ও খুচরা দোকানে নতুন পেঁয়াজ ও আমদানি করা পেঁয়াজের ছড়াছড়ি থাকলেও দামে প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। উল্টো বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, গত বুধবার কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। এর পর গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও নতুন করে আরও ১০ টাকা দাম বেড়েছে খুচরা বাজারে।

কারওয়ানবাজারের বিক্রমপুর বাণিজ্যালয়ের পাইকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফয়েজ জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বুধবার পাইকারি বাজারে দেশি মুড়ি কাটা নতুন পেঁয়াজের কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। তবে শুক্রবার নতুন করে দাম বাড়েনি পাইকারে।

একই বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. জুয়েল মিয়া জানান, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিক্রি চাহিদা বেড়ে গেছে, তবে সরবরাহ নেই। তাই এদিন দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আজ নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। দুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়।

একই অবস্থা আমদানিকৃত পেঁয়াজেও। আরেক খুচরা ব্যবসায়ী সাইফুল হোসেন বাবু জানান, শুক্রবার মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি। এ ছাড়া মিসরের পেঁয়াজ ৭০ টাকা এবং পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। গতকালও এসব পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কম ছিল।

এদিকে মালিবাগ, শান্তিনগরের মতো রাজধানীর অন্য বাজারগুলোয় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিতে ১০ টাকা বেশি দামে। এসব বাজারে খুচরা পর্যায়ে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে। একই রকম আমদানি করা পেঁয়াজের দামও ছিল বাড়তি।

শান্তিনগর বাজারের ক্রেতা নাজমুল হাসান বলেন, ‘এখন পেঁয়াজের মৌসুম, নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। সেখানে দাম বেড়েছে।’

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে শ্যামবাজারের মিতালী বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী কানাই সাহা জানান, দেশের সব অঞ্চল থেকে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেনি। তাই সরবরাহ বাড়ছে-কমছে প্রতিদিনই। তবে সপ্তাহখানেক পর সব অঞ্চল থেকেই পেঁয়াজ আসবে। তখন দাম কমে যাবে।

এদিকে রাজধানীর বাজারগুলো শীতের শাকসবজিতে ভরপুর থাকলেও দামে স্বস্তির দেখা মিলছে না। দাম না কমলেও বেশিরভাগ সবজির দাম বাড়েনি।

বাজারভেদে গতকাল বাজার ও মানভেদে শিম বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫, বেগুন ৪০ থেকে ৬০, মুলা ২০ থেকে ৩০, শালগম ৩০ থেকে ৪০, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০, দেশি পাকা টমেটো ৬০ থেকে ৮০, আমদানি করা পাকা টমেটো ৫০ থেকে ৬০, গাজর ৪০ থেকে ৫০, নতুন আলু ৩০ থেকে ৪০ ও বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

সবজি ব্যবসায়ীদের দাবি, মাত্র কয়েকটি সবজির সরবরাহ বেড়েছে, তাই হাতেগোনা কয়েকটি সবজি ছাড়া সবগুলোর দামই অপরিবর্তিত আছে।