মঙ্গলবার,২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মঠবাড়িয়ায় ঘনবসতি পূর্ণ এলাকায় অবৈধ ইট পাঁজা বন্ধের দাবি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর

মুক্তখবর :
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯
news-image

শাকিল আহমেদ, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বনজ ও ফলদ গাছ পূড়ে পরিবেশ দূষণ করে অবৈধ পাঁজায় ইট পোড়ানো বন্ধের দাবী জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী।
উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মধ্য সোনাখালী এলাকায় স্থানীয় শাহ আলম গাজীর মালিকাধীন এস.কে.এম নামের এ অবৈধ পাঁজা দ্রুত অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবার পাজা সংলগ্ন রাস্তার উপরে প্রায় অর্ধশত ক্ষতিগ্রস্তরা এ প্রতিবাদ করেন । সম্প্রতি প্রশাসন মোবাইল কোর্টের জরিমানা করে পাঁজা বন্ধ করে দেয়ার পর পূনরায় পাঁজায় ইট কাটার খবর পেয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের স্থানীয় সাংবাদিকরা পেশাগত কাজে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীরা এ প্রতিবাদ জানান। এসময় এলাকাবাসী ঘনবসতী পূর্ণ মধ্য সোনাখালী এলাকায় বনজ ও ফলদ বাগানের মধ্যে এ অবৈধ পাঁজায় গাছ ব্যবহার করায় বন উজাড় ও পরিবেশ ধূষিত হওয়া ,ফল ঝড়ে পড়া,কালো ধোয়ায় মাছ মরে যাওয়া, শিশু ও বৃদ্ধদের শ^াস কষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ এনে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।
এ সময় এলাকাবাসী অভিাযোগ করেন-পাঁজার অসাধু মালিক শাহ আলম গাজী আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে আমড়াগাছিয়া– ও সাপলেজা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সরকারি খালের বিশ^াস বাড়ি হতে নলী খালে বাঁধ দিয়ে জনগনকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে ওই খালের মাটি কেটে অবৈধ পাজায় ব্যবহার করছে।
স্থানীয় বাদুরতলীর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ. বারেক গাজী (৭১) বলেন, এ অবৈধ পাজা এখন আমাদের মরণকাটা। পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ পাজার ধোঁয়ায় ফলদ গাছের ফল ঝড়ে পড়ছে এবং আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকিতে আছি।
সাবেক ইউপি সদস্য আ. মালেক গাজী(৭০) বলেন, গতবছর থেকে আমার বসতবাড়ি ও বাগান সংলগ্ন এ পাজার কারনে বাগানের সুপারি ও নারিকেল ফলন কমে গেছে এবং যখন পাজায় আগুন দেয় তখন পুকুরের মাছও মরে যায়।
স্থানীয় ডা. রুস্তম আলী ফরাজী কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী মনিরা (২২) বলেন, আমরা এ দূষণকারী পাজার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকে পিরোজপুরের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে চলতি মাসের ১২ ডিসেম্বর নির্বার্হী মেজিষ্ট্রেট আল ইমরান খান ঘটনা স্থলে এসে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ওই পাজার মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং এ অবৈধ পাজা বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু একদিন পর প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ওই পাজায় শাহ আলম পূনরায় ইট কাটা শুরু করলে জেলা প্রশাককে আবারও লিখিত অভিযোগ করি।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান(৪৬) বলেন, পাজা সংলগ্ন খালে বাঁধ দিয়ে মাটি কাটার ফলে ওই গ্রামের পুকুরে জোয়ারের পানি উঠতে না পারায় পানি শূন্য হয়ে পড়ছে এলাকার পুকুরগুলো।
ওই এলাকার গৃহবধু সালমা সুলতানা (৩৫) বলেন, গতবছর যখন এ ইটের পাজায় আগুন ধরানো হয় তখন আমার তিন শিশু সন্তান স্বাস কষ্ট ও ডায়েরিয়ায় মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
পাঁজা মালিক শাহ আলম গাজী বলেন, আমার পাজায় স্থানীয়দের কোন ক্ষতি হচ্ছেনা।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই পাজার বিরুদ্ধে আগেও মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অর্থ জরিমানা করে বন্ধ করা হয়েছিল। পূনরায় ইট পোড়ার চেষ্টা করলে দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।