বৃহস্পতিবার,২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হত্যার পর হাত-পা কেটে ড্রামের ভেতর……….

মুক্তখবর :
জানুয়ারি ৪, ২০২০
news-image

ঢাকা, শনিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার) : ঢাকার ধামরাইয়ে নিজের প্রেমিকা বন্ধুকে পছন্দ করে প্রেমের প্রস্তাব দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে গলাটিপে হত্যার পর হাত-পা কেটে ড্রামের ভেতর পেট্রোল ও লবণ মিশিয়ে ১৯দিন রেখে কঙ্কাল বানানোর লোমহর্ষকর বর্ণনা দিয়েছে ঘাতক লিটন মিয়া ও তার মা নুরজাহান বেগম। বৃহস্পতিবার রাতে সাভার ও ধামরাই এলাকা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চানঞ্চ্যকর সায়েম হত্যার হত্যাকারী লিটন মিয়া ও তার মা নুরজাহান বেগম গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হলে ১৬৪ ধারায় সায়েম হত্যাকান্ডের এমনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে শনিবার সাংবাদিকদের জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধামরাই থানার এসআই শেখ সেকেন্দার আলী। এ হত্যাকান্ডে আরও যারা জড়িত তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মারাপাড়া গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে লিটন মিয়া পাশের সাটুৃরিয়া উপজেলার জান্না গ্রামের আয়শা আক্তার নামে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। কিছুদিন পর লিটন মিয়া তার প্রতিবেশী ধামরাইয়ের মারাপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে সায়েম হোসেনকে ওই মেয়েকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর লিটনের আচরণ ভালো না হওয়ায় আয়শা আক্তার লিটনকে ছেড়ে সায়েম হোসেনকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি লিটন মিয়া টের পেয়ে সায়েমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
সায়েম স্থানীয় একটি ভেকু গাড়ি চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতো। এরপর গত ১৪ জুন রাত আটার দিকে লিটন মিয়া অন্যের মোবাইল দিয়ে ফোন করে সায়েমকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। এসময় লিটন ও তার মা নুরজাহান বেগমসহ আরও কয়েকজন মিলে সায়েমকে গলাটিপে হত্যার পর তার হাত-পা কেটে একটি বড় ড্রামের ভেতর রাখে।

সায়েমের লাশ গুম করার জন্য ড্রামের ভেতর পেট্রোল ও লবণ দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর ১৬ জুন সায়েমের নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে তার বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ২ জুলাই সন্দেহ করে লিটনের বন্ধু প্রতিবেশী মাদকসেবী রবিনকে আটক করে পুলিশ। এরই মধ্যে সায়েমের লাশ গলে কঙ্কাল হয়ে যায়। পরে ধরা পড়ার ভয়ে দীর্ঘ ১৯দিন ড্রামের ভেতর রাখা সায়েমের কঙ্কাল হওয়া লাশ গত ৩ জুলাই রাতে ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মারাপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় ফেলে দেয় লিটন। এরপর ৫ জুলাই সকালে স্থানীয় লোকজন ওই খন্ড খন্ড কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ওইসময় কঙ্কালের পাশ থেকে সায়েমের প্যান্ট ও গেঞ্জির কিছু কাটা অংশও উদ্ধার করে। এতে কঙ্কালগুলো সায়েমেরই বলে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন। এরপর লিটন মিয়া এলাকা থেকে গা ঢাকা দিলেও তার মা নুরজাহান বেগম বাড়িতেই বসবাস করে আসছিল। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার ২১ দিনের মধ্যে সায়েমের লাশ কঙ্কাল হওয়ার বিষয়টি পুলিশসহ এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ সেকেন্দার আলী দীর্ঘ ৬ মাস বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের মূল ঘাতক লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার স্বীকারোক্তি নিয়ে রাতেই ধামরাইয়ের মারাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে লিটনের মা নুরজাহান বেগমকেও গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার পুলিশ তাদের আদালতে প্রেরণ করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ওসি আরও জানান, এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

-সূত্র : মানবজমিন