সোমবার,৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করছেন তুরাগের সেন্টু

মুক্তখবর :
জানুয়ারি ৯, ২০২০
news-image

রাজউকের অসহায়ত্বের সুযোগ; পর্ব-২

শিমুলী আক্তার নীলু : রাজউকের শর্ত ভঙ্গকরে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক মহাখালি জোন ৩ এর আওতাধীন তুরাগ থানাধীন রানাভোলা মৌজাস্থ, রানাভোলা প্রধান সড়কের সিএস দাগ নং ১২(পি), আরএস দাগ নং ১২(পি) প্লট নং বা এম এস দাগ নং ২৪৬ উপর তলা মোট ১১তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ করছেন মোঃ সেন্টু তালুকদার। ২৪৬নং প্লটের উপর রাজউক থেকে আবাসিক ভাবে বেজমেন্ট সংখ্যা-১টি, ও বেজমেন্ট ব্যতিত ১০তলার অনুমোদন নিয়ে প্রায় ০৯তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে ১০ তলার কাজ চলমান রেখেছেন ভবন মালিক মোঃ সেন্টু তালুকদার। রাজউকের নির্মাণ অনুমোদন স¦ারক নং- ২৫.৩৯.০০০০. ০৯০.৩৩.০৭৮.১৮.০৯২স্থাঃ। রাজউক থেকে নকশার অনিমোদনে যে ১৪টি শর্ত রয়েছে তা অমান্য করে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করছেন ভবন মালিক। রাজউকের কোন শর্ত না মেনে নিজের ইচ্ছেমত ভবনের সামনের প্রধান সড়কটি ডেভের নক্সা অনুযায়ী ৬০ফিট, কিন্তু এ ভবন মালিক রাস্তার জায়গা ছাড়ার পরও নির্মীতব্য ভবনের পশ্চিম পাশে প্রায় ৬/৮ফিট সরকারি রাস্তা দখলে রয়েছে। কিন্তু রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী নির্মীতব্য ভবনের সম্মুখে কোন রাস্তা হলে এই রাস্তা প্রসস্ত করনের জন্য সম্পূর্ন রাস্তা ছেড়ে ভবন নির্মাণ করতে হবে এবং জন সাধারনের চলাচলের জন্য ভবন মালিককে আরো প্রায় ৫ফিট জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ছাড়তে হবে। তিনি সম্পূর্ন রাস্তা না ছেড়ে উল্টো ভবনের সম্মুক্ষে/পশ্চিম পাশে প্রায় ৩/৪ ফিট দক্ষিন পাশে ৪/৫ ফিট উত্তর পশেও প্রায় ৪/৫ ফিট, পূর্ব পাশে প্রায় ২/৩ফিট ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করছেন যা রাজউকের ইমারত নির্মাণ আইনের সু-স্পষ্ট লংঘন ও রাজউকের আইন বহির্ভূত। রাজউকের প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ করছেন। টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ ও ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ অনুসারে ভবন নির্মাণ করছেন না। রাজউকের নকশার অনুমোদনের ১৪টি শর্ত্বের মধ্যে জনসাধারনের চলাচলের সুবিধার্থে সেফটিনেট ব্যবহার করার বিধান থাকা শর্তেও তিনি তা ব্যবহার করছেন না। রাজউকের আইনের তোয়াক্কা না করে নকশা অনুমোদনের শর্ত্ব সমুহ সু-পরিকল্পিত ভাবে অমান্য করা হয়েছে।এতে ইমারত নির্মাণ আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এসব চাঞ্চচল্যকর তথ্য। অনেকের নকশার অনুমোদন থাকলে ও নকশার বিচ্যুতি করে নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউকের নির্দেশনা মানছেন না মোঃ সেন্টু তালুকদার সহ অন্যান্য প্লট মালিকরা। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ বাড়ির মালিক নকশা থাকলেও সে অনুসারে ভবন নির্মাণ না করে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মোঃ সেন্টু তালুকদার। স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, ডেভিয়েশন করে নকশার বিচ্যুতি করে, সেফটিনেট বিহীন ভবন নির্মাণের কারনে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু ভবন মালিক তার বাড়ি নির্মাণ করার সময় কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই নিজেদের ইচ্ছেমত ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এতে করে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এখনি সময় এ সমস্ত ভবনের বা মালিকদের বিরুদ্ধে সরকারের বা রাজউকের আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ। তারা আরো বলেন রাজউক বিভিন্ন এলাকায় যে ভাবে অভিযান বা মোবাইল কোট পরিচালনা করে এরকম অনেক ক্ষমতাশীলদের ভবন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছেন, তাই এ এলাকাতেও অতি সত্তর সে রকম অভিযান করা উচিত। এ বিষয়ে নির্মীতব্য ভবনের মালিক মোঃ সেন্টু তালুকদারের মুঠোফেনে বারবার চেষ্টা করে তিনি ফোন রিসিভড করেননি। তবে মালিক পক্ষের একজন প্রতিবেদকে বলেন পুরো এলাতে অনেকেই এভাবে ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করছেন আমরাও তাদের মত করে করেছি ।বাকি রাজউক দেখবেন। এ বিষয়ে রাজউক মহাখালি জোন ৩ এর দায়িত্বে নিয়জিত অথরাইজ্ড অফিসার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি দৈনিক মুক্তখবরকে বলেন, রাজউকের নকশার বিচ্যুতি করে নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করে থাকলে রাজউক কর্তৃপক্ষ তাকে কখনো ছাড়দিবেন না, কেউই আইনের উর্দ্ধে নয় আইন সকলের জন্য সমান। আইনকে সম্মান দেওয়া সকল সচেতন নাগরিকের কর্তব্য। রাজউকের আইন অমান্য করে ভবন নির্মাণ করার কারনে রাজউক তার ভবনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ইনশাআল্লাহ।