মঙ্গলবার,৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অবাধে তোলা হচ্ছে পদ্মা নদীর বালু

মুক্তখবর :
জানুয়ারি ১৬, ২০২০
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার) : হাইকোর্টের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে রাজশাহীর পদ্মানদীতে একাধিক স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছেন ঠিকাদাররা। উত্তোলিত বালু মজুদ করা হচ্ছে নদী তীরে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক সংলগ্ন এলাকায়। ভঙ্গুরধর্মী পদ্মার সাথে এমন খামখেয়ালি আচরণে, বহুমুখি ক্ষতির শঙ্কা পরিবেশবিদদের। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পদ্মার তীর ও নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক সুরক্ষা বাঁধের কোল ঘেঁষে তোলা হচ্ছে বালু। জেলা প্রশাসনের বালিমহল চিহ্নিত কমিটি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী নদীতীরের এক-দেড় কিলোমিটার ভেতর থেকে বালু তোলার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে বালু তুলছে, উম্মে রোমান ইন্টার প্রাইজ নামের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। একই সাথে নদীর পানিপ্রবাহ আটকে রাস্তা নির্মাণ, ব্লকবাঁধের উপর দিয়ে বালির ট্রাকের রাস্তাও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। হরিপুর ও নবগঙ্গা এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও তা মানছেন না ইজারাদাররা। বালু উত্তোলণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নদীতীরের হরিপুর, সোনাইকান্দি ও বুলনপুরের বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলেও কোন লাভ হয়নি। একই সাথে উত্তোলিত বালি মজুদ করা হচ্ছে শহর রক্ষার বাঁধের উপরেই। এতে বালিমহল থেকে গড়িয়ে আসা পনিতে সৃষ্টি হচ্ছে বড়সড় জলাশয়ের, যা অদূরের বাঁধের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলছেন এই প্রকৌশলী। পানি উন্নয়ন বোর্ড’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আমিরুল হক ভূঞা বলেন, তারা বালুটা তুলে যেন পাড়ে না রাখে, পানিটা স্লোপের ভেতর দিয়ে গেলে স্লোপ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা আছে। পরিবেশবিদের আশঙ্কা, কূল ঘেঁষে অব্যাহত বালি উত্তোলনে আরো ভাঙন প্রবণ হবে নদী, তাতে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু আইটি পার্কসহ ক্ষতিগ্রস্থ হবে নদী তীরের এলাকাগুলো। রাবির পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড.গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বলেন, খুব তীরবর্তী অবস্থা থেকে বালু তোলা নদীর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, বিশেষ করে নদীর বাঁধের জন্যে। বালি উত্তোলনে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে স্বীকার করে জেলা প্রশাসন বলছে, সবকিছু খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, যেগুলো আমাদের শহরের জন্য থ্রেট বা নদী ভাঙনের আশঙ্কা থাকে সে সকল বালুমহল বাদ দিয়ে বিকল্প বালুমহলের চিন্তা করছি। পদ্মা নদীর রাজশাহী অংশে বালিতোলে ১১টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শহরের অংশে রয়েছে ৩টি প্রতিষ্ঠান।

-সূত্র : সময় সংবাদ