মঙ্গলবার,২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বাড়ছে প্লাস্টিকের চাহিদা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবেশে

মুক্তখবর :
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০
news-image

——–তৌহিদুর রহমান তুহিন——–

প্লাস্টিক বর্জ্য যেন মহামারি আকার ধারণ করতে না পারে তাই এখন থেকেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গড়ে তুলতে হবে এক বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী। মানুষের জীবনে যখন যা প্রয়োজন তখন তাই উদ্ভাবন করছে। তবে এখন পর্যন্ত যত আবিষ্কার হয়েছে এদের মধ্যে অন্যতম ও আশ্চর্যজনক উপাদান হলো প্লাস্টিক। এটি সিনথেটিক বা অর্ধ-সিনথেটিক জৈব যৌগের তৈরি উপাদান- যা টেকসই, নমনীয়, শক্তিশালী ও হালকা। বর্তমানে প্লাস্টিক ছাড়া এক মুহূর্ত জীবনধারণ অসাধ্য। দিনের শুরুতে চায়ের কাপ থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত প্লাস্টিক নিত্যসঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে পস্নাস্টিকের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের সবরকম চাহিদা মেটাচ্ছে প্লাস্টিক এবং পস্নাস্টিকের তৈরি উৎপাদিত পণ্য- যা সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে পস্নাস্টিকের বহুমাত্রিক ব্যবহার করতে শুরু করেছে।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী পস্নাস্টিকের বিভিন্ন রকমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবন যাত্রার মানও পরিবর্তন হচ্ছে। স্থানীয় ও বৈশ্বিক চাহিদার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০টির মতো প্লাস্টিক কারখানা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০০০-এর বেশি, ছোট, মাঝারি ও বড় ধরনের প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক কারখানা রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিকসামগ্রী, পিভিসি পাইপ, মেডিকেলসামগ্রী, শপিং ব্যাগ, গার্মেন্টস ব্যাগ, প্লাস্টিক বোতল, গৃহস্থালিসামগ্রীসহ প্রায় ২৫০টির অধিক পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানি কারক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার ছিল ২৫০০ কোটি টাকার। বাংলাদেশে বিকাশমান প্লাস্টিক শিল্পের শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালের দিকে। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ এর মধ্যে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে যার অন্যতম কারণ ছিল বিশাল চাহিদা। বেশিরভাগ কারখানা বিদেশি চাহিদা মেটানোর জন্য তাদের উৎপাদন ক্ষমতাও নিয়মিত বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের মানুষ গড়ে প্রায় যেখানে ৫ কেজি ব্যবহার করে সেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত প্রায় ৬ কেজি ব্যবহার করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রায় ৪০ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করে। শুধু বাংলাদেশে ১৯৯০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পস্নাস্টিকের চাহিদা এবং উৎপাদন ২০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি করছে অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য- যা পরিবেশের এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির মতে, ঢাকা শহরে পস্নাস্টিকের বর্জ্য ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ১.৭৪% থেকে ৪.১% বৃদ্ধি পেয়েছে- যা ২০১৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৫ শতাংশ। পস্নাস্টিকের তীব্র চাহিদার জন্য বাংলাদেশ প্রায় ১.৩ লাখ টন কাঁচামাল আমদানি করেছে। এই চাহিদা যে দিন দিন বৃদ্ধি পাবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বে উৎপাদিত সব পস্নাস্টিকের মধ্যে অর্ধেকই তৈরি করা হয় মাত্র একবার (ওয়ান টাইম) ব্যবহার করার জন্য যা উদ্বেগজনক। এই প্লাস্টিক বর্জ্যরে অধিকাংশ সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে- যা সমুদ্রের জলজপ্রাণি থেকে শুরু করে পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট করে দিচ্ছে- যা সমুদ্রের প্রধান সম্পদ মৎস্য প্রজনন এবং বংশবিস্তারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
পস্নাস্টিকের মতো খুব কম আবিষ্কারই মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পেরেছে। মাত্র একশত বছর আগে আবিষ্কৃত প্লাস্টিক শুধু পোশাক প্যাকেজিং, পরিবহন, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হতো। সেখানে তারা ঐতিহ্যবাহী উপকরণ যেমন কাঠ, সুতা, কাগজ, সিরামিক, গস্নাস, চামড়াজাত দ্রব্য, ধাতব পদার্থের স্থানে পস্নাস্টিকের জায়গা করে দিয়েছে। বিশ্বের ৭০ শতাংশ পস্নাস্টিকের প্রতিনিধিত্ব করা শাখা হলো প্লাস্টিক প্যাকেজিং, বিল্ডিং এবং নির্মাণসামগ্রী, মোটরগাড়ি ও স্বাস্থ্যসেবা। শুধু প্যাকেজিং শিল্পের জন্যই বিশ্বব্যাপী ৪০ শতাংশ পস্নাস্টিকের প্রয়োজন- যা দিন দিন বেড়েই চলছে। দিনে দিনে প্লাস্টিক দানবীয় রূপ ধারণ করছে, যেন সবকিছু গ্রাস করবে। এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবী একদিন হয়ে উঠবে পস্নাস্টিকের গ্রহ।
এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে উৎপাদন খরচ যথেষ্ট সস্তা এবং সহজে পরিচালনা করা যায়। মুক্ত বিশ্ববাণিজ্যের সুবাধে পরিবহন ব্যয় কমায় সবার কাছে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে একটি গ্রহণযোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। ইউরোপিয়ান প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে বিশ্বে পস্নাস্টিকের গড় চাহিদা প্রায় ৮.৬ শতাংশ হারে বেড়ে চলছে যার প্রভাবে বর্তমানে প্রায় ৩৩৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এ পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। ক্রমাগত প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদার পেছনে মূলত কয়েকটি কারণকে দেখা হয়। প্রথমত হলো, বিশ্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধি যেখানে তাদের জীবনধারার চাহিদা মেটাতে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয় প্লাস্টিক। চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ পস্নাস্টিকের অব্যাহত নতুন নতুন উদ্ভাবন- যা সহজেই বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যৎ চাহিদার ক্ষেত্রে যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকেই গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক বলা হয় তারপরেও পণ্যের স্থায়িত্বও চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়ক। প্লাস্টিক শিল্পের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ভার্জিন পণ্য তৈরি করছে যেখান থেকে মাত্র নয় শতাংশ বর্জ্যকে রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় ও বার শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বাকি ৭৯ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য কেবল ফেলে দেওয়া হয়েছিল- যা বিশ্বকে একটি আবর্জনার স্তূপ হিসেবে পরিণত করেছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশসমূহ প্লাস্টিক দূষণের প্রভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব দেশে পস্নাস্টিকের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারছে না উন্নত বিশ্বের তুলনায়।
প্লাস্টিক শিল্পের বৃদ্ধির পাশাপাশি এর বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রকৃতিতে পড়তে শুরু করেছে। মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহারের পর কোনো রকম পুনঃব্যবহার বা পুনঃচক্রায়নের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি প্রকৃতিতে ফেলে দিচ্ছে। প্রতি বছর যা দূষিত করছে তা হলো- মাটি, পানি ও বায়ু। সেই সঙ্গে মাটির স্বাভাবিক চক্রায়ন প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করে। ভূগর্ভস্থ পানি চলাচলে বাধা প্রদান করে। সর্বত্র শুধু প্লাস্টিক আর প্লাস্টিক- রাস্তাঘাট, নদীনালা, ড্রেন এমনকি পাহাড়ে পর্যন্ত পস্নাস্টিকে ছেয়ে গেছে। প্রক্রিয়াজাত খাবারের মোড়ক, কোমল পানীয়, বিভিন্ন ফলের জুস, নিত্যপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী, বহন যোগ্য কন্টেইনারসহ প্রায় সর্বত্রই পস্নাস্টিকের ছড়াছড়ি। এই ক্রমবর্ধমান পস্নাস্টিকের উৎপাদন চাহিদা মেটানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে কাঁচামালের প্রয়োজন। অন্যতম কিছু কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে- পলিস্টাইরিন, পলিইথিলিন যা থেকে পানীয় বা কসমেটিক বোতল তৈরি হয়, পলিভিনাইল ক্লোরাইড যা থেকে পিভিসি পাইপ তৈরি হয়, পলিথিন ও পলিপ্রোফিলিন যা থেকে চেয়ার, টেবিল, পেস্নট বা অন্যান্য কঠিন প্লাস্টিক পণ্য উৎপন্ন হয়। এই কাঁচামাল সংগ্রহ করতে প্রচুর পরিমাণে দূষিত পদার্থ বায়ুতে নির্গত হচ্ছে এবং দূষণের মাত্রাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পস্নাস্টিকের চাহিদা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর প্রভাব সরাসরি মানুষের ওপর পড়বে। আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত মাছ-মাংস বা শাক সবজির মাধ্যমে মাইক্রো পস্নাস্টিকের কণা শরীরে প্রবেশ করতে থাকবে এবং খাদ্য শৃঙ্খল ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে যাবে। মানব শরীরের থাইরয়েডের হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য এই প্লাস্টিক দূষণকে বিশেষভাবে দায়ী করছে বিজ্ঞানীরা। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হচ্ছে। এই বিশাল পস্নাস্টিকের চাহিদার জন্য প্রচুর পরিমাণে কারখানা তৈরি করতে হয়- যার বেশির ভাগই হয়ে থাকে বড় বড় শহর কেন্দ্রিক- যেখানে বিদ্যুৎ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ সহজলভ্য। কিন্তু প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদনের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় উপযোজন হিসেবে যেখানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত থাকে। সেই বর্জ্য প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মিশে মাটির মধ্যে জৈব উপাদান ধ্বংস করে।
প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে হলে পস্নাস্টিকের ওপর নির্ভরশীলতা যে কোনো মূল্যে কমাতে হবে যার জন্য প্রয়োজন আমাদের ইচ্ছাশক্তি এবং সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সেই সঙ্গে প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্য হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ পুনঃব্যবহার বা টেকসই ব্যবহার নিয়ে সচেতন নয়। সে জন্য আমাদের পস্নাস্টিকের পুনঃব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে সেখানে পস্নাস্টিকের র্বর্জ্য না ফেলে পুনঃচক্রায়ন (রিসাইকেল) এবং রিকভার করে চাহিদা পূরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এই ক্রমাগত চাহিদার জোগান দিতে প্লাস্টিক কারখানার জন্য একটি বিশেষায়িত শিল্প অঞ্চল তৈরি করতে হবে এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে রিসাইক্লিং কারখানা তৈরি করতে হবে যেখানে বিশাল জনগোষ্ঠীর প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃচক্রায়নের মাধ্যমে নতুন পণ্য তৈরি হবে। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে যে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন শুরু হয়েছিল কালের পরিক্রমায় তা পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন জীবনধারা সহজ করছে অন্যদিকে টেকসই উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ বাড়াতে হবে যেন তারা প্লাস্টিক বর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু দেশ প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে অনুৎসাহিত করেছে। তাই অনমনীয় ও ক্ষতিকারক পস্নাস্টিকের বিকল্প হিসেবে জৈব পস্নাস্টিকের সহজলভ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে ক্রয় ক্ষমতা। প্লাস্টিকবিহীন জীবনযাপন সম্ভব না হলেও পরিবেশের ওপর যেন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কার্যতপক্ষে পরিবেশের ক্ষতি করার মানে হলো নিজের ক্ষতি করা, যার প্রভাব বয়ে বেড়াতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বেড়ে উঠতে হবে এক তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জাতিসংঘ থেকে সব আন্তর্জাতিক সংস্থা, জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে সবাইকে একসঙ্গে পস্নাস্টিকের উৎপাদন, বাণিজ্য এবং ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের কঠোর প্রয়োগে করতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য যেন মহামারি আকার ধারণ করতে না পারে তাই এখন থেকেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গড়ে তুলতে হবে এক বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী।