সোমবার,১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

মুক্তখবর :
জুন ১৮, ২০২০
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০ (স্টাফ রিপোর্টার): আষাঢ়ের শুরুতেই ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ চলছে দেশের অনেক এলাকায়; টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ ৩০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পাঁচ বছর আগে এই কক্সবাজারেই ভারি বর্ষণ ও পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বেশ সক্রিয় থাকায় আরও দুয়েকদিন এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ঝড়ো হওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, সক্রিয় মৌসুমী বায়ু এবং গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূইয়া জানান, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল, তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ এবং দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। এর ফলে মেঘনা অববাহিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার নদীগুলোতে পানি বাড়বে।

রবি বা সোমবারের দিকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে আসবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার রাজধানীতে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০০ মিলিমিটার, কুতুবদিয়ায় ২৭৮ মিলিমিটার, খেপুপাড়ায় ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় ছিল ভারি বর্ষণ।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গতবছর জুলাইয়ে ২৮ জেলায় ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৭ সালে জুলাই-অগাস্টে দুই দফা বন্যা হয়। অগাস্টের বন্যায় দেশের ৩০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ২০১৭ সালের মধ্য জুনে ভারি বর্ষণে অন্তত চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজার জেলায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়।

২০১৫ সালে কক্সবাজারে টানা বর্ষণ, ধস আর পাহাড়ি ঢলে ১৯ জনের প্রাণহানি হয়। এ জেলার টেকনাফ, রামু, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলাতেই সাতজন মারা যান।

২০১২ সালে ২৬-২৭ জুন টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, ধস ও বজ্রপাতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে ৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০০৭ সালের ১১ জুন বর্ষণ আর পাহাড় ধসে বিপর্যয়ের নগরীতে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। কাদা মাটির নিচে পড়ে সাতটি স্থানে প্রাণ যায় ১২৭ জনের।

বর্ষার শুরুতেই ভারি বৃষ্টির পর চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে বসবাসকারীদের সরাতে ইতোমধ্যে মাইকিং শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন, খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। গত বছর চট্টগ্রামের ১৭ পাহাড়ের বিভিন্ন অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। চলতি বছর তার সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ঝূঁকি নিয়ে অবৈধভাবে পাহাড়ে বসবাসকারীদের মাইকিং করে সরে যেতে বলা হয়েছে। তারা সরে না গেলে অভিযান চালানো হবে।