বুধবার,২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কোরবানির চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

মুক্তখবর :
জুলাই ১৯, ২০২০
news-image

ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০ (নিজস্ব প্রতিনিধি): আর কয়েকদিন পর কোরবানি ঈদ। এবার ঈদে পশুর চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রায় দুই কোটি টাকার মতো পুঁজি আটকে আছে তাদের। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর নওগাঁয় ৮০ হাজারের বেশি গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার গরু ও বাকি ৪৫ থেকে ৫০ হাজার অন্যান্য গবাদিপশু। আর জেলায় প্রতি বছরের কোরবানি মৌসুমে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চামড়া কিনে নেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। জেলার মূল চামড়া ব্যবসায়ী সদস্য সংখ্যা ২২১। এছাড়া ১৫০ জনের মতো নানান ফড়িয়া ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আছেন। তবে এসব চামড়া ব্যবসায়ীর প্রায় সবাই এখন মূলধন হারিয়ে অভাবে দিনাতিপাত করছেন। চামড়া ব্যবসায়ী সাদিক হোসেন বলেন, গত তিন বছরে কয়েকটি ট্যানারিতে ৩৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা আটকে আছে। সামনে কোরবানি। কিন্তু কাছে কোনো টাকা নেই। আরেক চামড়া ব্যবসায়ী ফরিদ আকতার বলেন, নাটোরের এক চামড়ার আড়তদারের কাছে ২০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তাগাদা দিয়েও ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ট্যানারি মালিকরা চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা না দিয়ে তারা ভিন্ন পন্থা অনুসরণ করে। যে জেলায় পাওনাদার আছে সেই জেলায় তারা দ্বিতীয়বার নিজে না গিয়ে তাদের লোক পাঠিয়ে চামড়া কিনে। এভাবেই দেশের চামড়া ব্যবসায়ীদের মূলধন আটকে রেখে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিভিন্ন ট্যানারির কাছে গত তিন বছরে তার ২৪ লাখ টাকা পাওনা আছেন বলে জানান। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মো. মোমতাজ হোসেন বলেন, কয়েকটি ট্যানারির কাছে আমার মোট ৩০ লাখ টাকা পাওনা আছে। গত বছর টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাদের টাকা দেয়নি। এখন চামড়া কেনার পর সংরক্ষণের জন্য লবণ কেনার মতো টাকাও নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। এবার কে চামড়া কিনবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ যারা প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ী তাদের কাছে টাকা নেই। সরকার যদি ট্যানারি মালিকদের সরাসরি ঋণ না দিয়ে ট্যানারি ফেডারেশন এবং ট্যানারি অ্যাসোসিয়েনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করত, তাহলেই ব্যাংকঋণের সুফল মিলবে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, নওগাঁর ব্যবসায়ীরা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা পায় এমন দাবি সত্য নয়। তারা কিছু টাকা আগে পেত। গত বছর তা পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁর ব্যবসায়ীরা সাধারণত নাটোরের ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া বিক্রি করে। তারা সেখানে টাকা পেলে আমাদের কী করার আছে। তবে কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসলে সমাধানের চেষ্টা করবো। বিটিএর সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, নওগাঁর কোনো ব্যবসায়ী টাকা পেয়ে থাকলে অ্যাসোসিয়েশনকে জানালে সমাধান করার চেষ্টা করবো।