বুধবার,২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যক্ষ্মার টিকা!

মুক্তখবর :
আগস্ট ৩, ২০২০
news-image

ঢাকা, সোমবার, ০৩ আগষ্ট ২০২০ (স্বাস্থ্য ডেস্ক): নভেল করোনাভাইরাসের গবেষণায় আরো এক নতুন তথ্য পেলেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, যক্ষ্মা প্রতিরোধের ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন বা বিসিজি টিকা করোনা সংক্রমণের গতি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। অন্তত প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্ভব। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্স’ নামে একটি মার্কিন মেডিকেল জার্নালে এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

‘সায়েন্স অ্যাডভান্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, যে দেশগুলোতে বিসিজি টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সে দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর অন্তত প্রথম ৩০ দিন সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কম থাকে।

করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গত ২৯ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে দুই হাজার ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়। গবেষকরা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যদি কয়েক দশক আগেই বিসিজি টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকত, তাহলে হয়তো করোনায় মৃত্যুর সেই সংখ্যা কমে ৪৬৮ জনের আশপাশে থাকত।

যক্ষ্মার প্রতিষেধক হিসেবে বাংলাদেশসহ চীন ও ভারতে শিশুর জন্মের পর বিসিজি টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। মার্কিন গবেষণাপত্রে বলা হয়, যেসব দেশ বাধ্যতামূলকভাবে বিসিজি টিকা প্রয়োগ করেছে, সেসব দেশে করোনায় মৃত্যুহারও তুলনামূলকভাবে কম। করোনার বিরুদ্ধে বিসিজি প্রতিষেধক কার্যকর কি না, এ নিয়ে গত আট মাসে কম গবেষণা হয়নি।

এর আগে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, বিসিজি ভ্যাকসিনটি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অভাবনীয় সাফল্য আনতে পারে। নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জৈব চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. গনজালো ওটাজু তাঁর পাঁচ শিক্ষার্থীসহ বিসিজি টিকা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

ড. গনজালো ওটাজু বলেছিলেন, ‘আমাদের গবেষণা একটি পরস্পর সম্পর্কিত গবেষণা। কোভিড-১৯-এর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব রয়েছে বলে আমরা মনে করি। কেন এমন হবে, তা আমরা ভাবছি। আমরা একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিসিজি ভ্যাকসিনটি পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের গবেষণা এবং অন্যান্য কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে বিসিজি ভ্যাকসিন যক্ষ্মা থেকে রক্ষা করার জন্য দেওয়া হলেও এটি শ্বাসকষ্টের অন্যান্য রোগ থেকেও রক্ষা করে।’

এদিকে, ‘সায়েন্স অ্যাডভান্স’ জার্নালের গবেষণায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রথম ৩০ দিনে ১৩৫টি দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এবং ১৩৪টি দেশে দৈনিক মৃতের সংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে। তা থেকেই গবেষকরা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যক্ষ্মার টিকা। তবে করোনা রুখতে বিসিজিকে যে ‘ম্যাজিক বুলেট’ বলা যায় না, তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তাঁরা।

ইন্ডিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের ডিন শশাঙ্ক যোশি একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিসিজি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এবং করোনার সংক্রমণকে দমিয়ে রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।’ উদাহরণ হিসেবে ওই চিকিৎসক পর্তুগালের কথা বলেছেন। কারণ, পর্তুগালে বিসিজি টিকা বাধ্যতামূলক। পর্তুগালের প্রতিবেশী দেশ স্পেনে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে পর্তুগাল।

শশাঙ্ক যোশি আরো জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঠেকাতে তাদের শরীরে বিসিজি প্রতিষেধক পুনরায় প্রয়োগ করা যায় কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের মহারাষ্ট্রে ২৫০ জন কোভিড-১৯ রোগীর ওপর বিসিজি টিকা প্রয়োগ করে মৃত্যুহার কমে কি না, তার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ওই পরীক্ষার ফল জানা যেতে পারে।