শনিবার,৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

উত্তরাঞ্চলের ফের বন্যা

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
news-image

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ (নিজস্ব প্রতিনিধি): কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজান থেকে আসা ঢলে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। চতুর্থ দফা পানি বেড়ে বন্যা দেখা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন দুর্গতরা। আমনসহ বিভিন্ন ফসলহানির আশঙ্কায় কৃষকরা। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লালমনিরহাটে ধরলার পানি বেড়েছে। এতে করে চতুর্থ দফা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার ধরলা পাড়ের কুলাঘাট, মোগলহাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের ১২ গ্রামের ৫ হাজারের বেশি পরিবার বন্যাদুর্গত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলের ক্ষেত। বন্যাকবলিতরা জানান, ‘ঘরে পানি, থাকার জায়গা নেই। কেউ খোঁজও নেয় না। গরু ছাগল নিয়ে বড় বিপদে আছি আমরা।’ কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে পার্শ্ববর্তী জেলা কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি পানি বেড়েছে ধরলা ও দুধকুমার নদে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা এবং গঙ্গাধরেও পানি বেড়েছে। এতে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও উলিপুর উপজেলার প্রায় অর্ধশত চর এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে শত শত একর রোপা আমন ক্ষেত। এদিকে নেত্রকোণায়ও কংস, মহাদেও, ধনু ও সোমেশ্বরীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। জেলার চার উপজেলার ২৫ ইউনিয়নের রোপা আমন তলিয়ে গেছে। জেলার ভুক্তভোগীরা জানান, ‘গরু, ছাগল বেচে নতুন করে সবকিছু গড়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু বন্যায় সব শেষ। নতুন করে বন্যা আসবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। সরকারি সাহায্য চাই আমরা।’ কৃষি বিভাগ জানায়, সদর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জে প্রায় ৫২৫ হেক্টর জমির রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে। জানতে চাইলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানান, ‘আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কৃষি অফিসারকে জানানো হয়েছে। তালিকা করে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।’