রবিবার,১লা নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ গ্রেফতার ৮

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
news-image

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ (স্টাফ রিপোর্টার): নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জে তল্লা এলাকায় মসজিদে বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংগঠিত হওয়ার অভিযোগে ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এস এম হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া এবং প্রকর্মী ইসমাঈল প্রধান। এদিকে আজ সকালে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজন মারা গেছেন। আব্দুল আজিজ (৪০) নামের ওই ব্যক্তি শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। এ নিয়ে ওই ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন, মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক (৬০), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮) ও তার ছেলে জুনায়েদ (১৭), দুই ভাই জোবায়ের (১৮) ও সাব্বির (২১), মুন্সীগঞ্জের কুদ্দুস বেপারি (৭২), চাঁদপুরের মোস্তফা কামাল (৩৪), পটুয়াখালীর গার্মেন্টস কর্মী রাশেদ (৩০), হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জামাল আবেদিন (৪০), গার্মেন্টস কর্মী ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), কলেজ শিক্ষার্থী রিফাত (১৮), চাঁদপুরের মাইনউদ্দিন (১২), ফতুল্লার জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের গার্মেন্টস কর্মী নয়ন (২৭), নিজাম (৩৪), নারায়ণগঞ্জের রাসেল (৩৪), শরীয়তপুরের নড়িয়ার ইমরান (৩৭), খুলনার কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), শিশু জুয়েল (৭), বাহার উদ্দিন (৫৫), নাদিম (৪৫), জুলহাস (৩৫), শামীম (৪৫), হান্নান (৫০), আব্দুস সাত্তার (৪০), নজরুল ইসলাম (৫০), শেখ ফরিদ (২১) ও আজকের আব্দুল আজিজ (৪০)। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা তল্লা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ফতুল্লা অফিসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে শুধু জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।