বুধবার,২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভর্তি পরীক্ষায় ঘুষ: সাজা পূর্ণ হলো হলিউড অভিনেত্রীর

মুক্তখবর :
অক্টোবর ২৬, ২০২০
news-image

ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ (বিনোদন ডেস্ক): অভিনেত্রী ফেলিসিটি হাফম্যানের সাজার মেয়াদ পূর্ণ হলো। অভিজাত কলেজে মেয়েকে ভর্তির জন্য ঘুষ দিয়ে একাধিক সাজা খাটেন তিনি। হাফম্যানের এক মুখপাত্র রবিবার পিপল ডটকমকে খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৫৭ বছরের অভিনেত্রী জেল খাটার পাশাপাশি কমিউনিটি সার্ভিসে সময় দিয়েছেন। এর মাঝে নজরদারি সাপেক্ষে মুক্তিও ছিল।

১৫ হাজার ডলার ঘুষের বিনিময়ে হাফম্যানের মেয়ে সোফিয়ার স্যাট টেস্টের উত্তর পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ উঠে গত বছর। এর পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অক্টোবরে ১৪ দিনের মধ্যে ১১ দিনের কারাদণ্ড পূর্ণ করেন। এ ছাড়া তাকে ২৫০ ঘণ্টা কমিউনিটি সার্ভিসের নির্দেশ দেওয়া হয়। শেষ এক বছর তিনি নজরদারির সাপেক্ষে মুক্ত ছিলেন। একই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হয়েছিলেন অভিনেত্রী লৌরি লৌলিন ও তার স্বামী ফ্যাশন ডিজাইনার মসিমো গিয়ান্নলি। ঘুষ দেওয়া ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে। তাই হাফম্যানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জেল ও কমিউনিটি সার্ভিসের আদেশ দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল জরিমানা। তবে একাধিক আপিলের কারণে তাদের সাজা সম্পূর্ণ হয়নি।

অভিযোগ ওঠার পর ফেলিসিটি হাফম্যান দ্রুত নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। ‘ডেসপারেট হাউসওয়াভস’ অভিনেত্রী জানান, ২০১৭ সালে মেয়ের ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র গোপনে সংশোধনের জন্য ১৫ হাজার ডলার ঘুষ দেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সাজা ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে হাফম্যান জানান, তিনি অনুতপ্ত। এই ঘটনার জন্য তার কাছে কোনো অজুহাত নেই। বলেন, “এ কাজের জন্য আমার মেয়ে, স্বামী, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সবার কাছে আবার ক্ষমা চাইছি।” যে শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন তাদের ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান এই অভিনেত্রী।

ওই সময় বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন হাফম্যান নিজের কাজের পুরো দায়ভার গ্রহণ করেছেন। সঙ্গে যোগ করেন, ভালো মা হওয়ার চেষ্টার সঙ্গে এ ধরনের কাজের সম্পর্ক নেই। এ মামলায় ঘুষ আদান-প্রদানের একাধিক ঘটনায় অভিভাবক ও অ্যাথলেট কোচসহ ৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে দোষী করা হয়নি। এই ঘটনায় কয়েক মাস আগে হলিউড অভিনেত্রী লোরি লৌলিন ও ফেলিসিটি হাফম্যানসহ কয়েক জনকে ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটর জানান, তারা অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। ঘুষ দিয়েছেন ক্রীড়া কোচ, পরীক্ষক ও অন্যদের।

এ আলোচিত ঘটনাকে এফবিআই নাম দেয় ‘অপারেশন ভার্সিটি ব্লুজ’। ইউএস অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু লেলিং একে কলেজ ভর্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি বলে উল্লেখ করেন। দুর্নীতির সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার কোচ, কর্মকর্তা এবং এসএটি ও এসিটি পরীক্ষার প্রশাসকেরা যুক্ত ছিলেন। এর আওতায় ৩৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। যাদের মধ্যে হাফম্যান একজন।