বুধবার,২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাভারে ছিনতাইকারীদের হাতে রাবি শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

মুক্তখবর :
অক্টোবর ২৭, ২০২০
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০ (নিজস্ব প্রতিনিধি): সাভারে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (৩২) হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব আটকরা হলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানার আজাদ শরীফ (২৯) ও সাভারের ডগরমোড়া এলাকার রনি ওরফে ডগি রনি (৩০)। গতকাল সোমবার গভীর রাতে সাভারের রাজাশন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাব-৪-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উনু মং বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার ছিনতাইকারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রাক্তন শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গত শনিবার ভোরে সাভারের শিমুলতলায় বাস থেকে নামামাত্রই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১৯ সালের স্নাতকোত্তর ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানার নওয়াপাড়া গ্রামের ছেলে মোস্তাফিজুর সাভারে গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। থাকতেন ঘটনাস্থলের অদূরে ডগরমোড়া মহল্লায়। স্ত্রী খাদিজা বেগম ও এক বছরের ছেলে মুসাকে নিয়ে সাভারে বসবাসের জন্য বাসাও ভাড়া করেছিলেন তিনি। তবে আসার দিন সন্তানের জ্বর থাকায় পরিবার ছাড়াই ঢাকার পথে রওনা দেন মোস্তাফিজুর। পরিবারের সদস্যরা জানান, গ্রাম থেকে ধারদেনা করে ১০ হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলেন মুস্তাফিজ। ছিনতাইকারীরা সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাদের পিছু নেন তিনি।

ঘটনাস্থলের পাশে একটি সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, তিন ছিনতাইকারী তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনতাই করে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে তৎপর হয় সাভার মডেল থানা পুলিশ, র‌্যাব ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বাবা মজিবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকায় আসার গাড়ি ভাড়াও ছিল না তাঁদের সঙ্গে। রাজশাহীর পুলিশ সুপারের সহায়তায় তিনি ঢাকায় এসেছেন। ভীতকণ্ঠে নিহতের বাবা বলেন, ‘আমি চাই আর কোনো বাবা যেন আমার মতো সন্তানহারা না হয়। পুলিশকে বলেছি, আপনারা ব্যবস্থা নেন। খুনিদের যেন দ্রুত ধরা হয়, যেন উপযুক্ত বিচার হয়। আমার মতো এভাবে সন্তান হারানোর কষ্ট যেন অন্য বাবাদের না হয়।’