শুক্রবার,২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তাজরীন ট্র্যাজেডির আট বছর আজ

মুক্তখবর :
নভেম্বর ২৪, ২০২০
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ (স্টাফ রিপোর্টার): রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের আট বছর পূর্ণ হলো আজ মঙ্গলবার। ২০১২ সালের এই দিনে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১৩ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরো অর্ধশতাধিক। এই ট্র্যাজেডিকে আজও হৃদয় থেকে ভুলতে পারেনি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবার। নিহতদের পরিবার ভোগ করছে স্বজন হারানোর বেদনা, আর পঙ্গু সদস্যদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবার। এ ছাড়া দিনটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ স্মৃতি। এদিকে, তাজরীন ট্রাজেডিসহ সব শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি নিরাপদ কারখানা ও কর্মস্থল নিশ্চিত করার দাবিতে নানা কর্মসূচি নিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। এর মধ্যে আজ সকালে নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরাসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাজরীন গার্মেন্টসের প্রধান ফটকের সামনে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সেখানে তাঁরা তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সব শ্রমিককে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ ও মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। এ সময় স্বজন হারানো পরিবারের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিকে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভোর থেকেই তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরবিন্দু বেপারী বলেছেন, ‘২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ আগুনে ১১৩ জন শ্রমিক নিহত হন। এটা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। আগুন লাগার পর মালিকপক্ষ কারখানার সব গেট বন্ধ করে দেয়, যা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দুঃখের বিষয়, সেই হত্যাকাণ্ডের আট বছর পূর্ণ হতে চলল, কিন্তু দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। এখনো তাজরীন গার্মেন্টসে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ক্ষতিপূরণ না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।’ অগ্নিকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া আহত শ্রমিক খোরশেদ আলম বলেন, ‘সবাই এই দিনটির কথা ভুলে গেলেও আমরা কোনোদিন ভুলতে পারব না। সেদিনের ভয়াবহতা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমরা তাজরীনের শ্রমিকরা সবদিক থেকেই বঞ্চিত হয়েছি। দুর্ঘটনার সময় আমরা কেউ প্রিয়জন, স্বজন, সহকর্মী ও হাত-পা হারিয়ে আট বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা যা পেয়েছি, সেটা আর্থিক সহায়তা, ক্ষতিপূরণ নয়।’ সরকার, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সংশ্লিষ্টরা এখনো তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন খোরশেদ।