মঙ্গলবার,১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাশিয়ার করোনা টিকা ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যকর

মুক্তখবর :
নভেম্বর ২৫, ২০২০
news-image

মার্কিন ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্না ও ফাইজার এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পর নভেল করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার নতুন তথ্য নিয়ে সামনে এলো রাশিয়া। দেশটির দাবি, করোনা প্রতিরোধে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ মানবদেহে ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যকর। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। মডার্না ও ফাইজার এরই মধ্যে তাদের করোনা টিকা মানবদেহে যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে জানিয়েছে। এ দৌড়ে পিছিয়ে নেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও। অক্সফোর্ডের দাবি, তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গেছে, তাদের করোনা টিকা মানবদেহে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। এ অবস্থায় রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’-এর প্রস্তুতকারক সংস্থা তাদের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছে। তাদের মতে করোনা নিয়ন্ত্রণে মানবদেহে ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যকর। রু‌শ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গামালেয়া রিসার্চ সেন্টার ও রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) একটি যৌথ বিবৃতিতে গত ২৩ নভেম্বর একথা জানানো হয়েছে। এর আগে রাশিয়া দাবি করেছিল, ‘স্পুটনিক ভি’ করোনা প্রতিরোধে ৯২ শতাংশ কার্যকর। আরডিআইএফের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ বলেন, ‘স্পুটনিক খুব উচ্চমাত্রায় কাযর্কারিতা দেখাচ্ছে, ৯৫ শতাংশের বেশি। এটি কেবল রাশিয়ার জন্য নয়, গোটা বিশ্ব এবং বিশ্বের সব দেশের জন্যই সন্দেহাতীতভাবে ইতিবাচক খবর।’ ‘স্পুটনিক ভি’ বিদেশে বিক্রি করায় দায়িত্বও রয়েছে দিমিত্রভের কাঁধে। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ভ্যাকসিনের একটি ডোজ কিনতে ১০ ডলারের বেশি লাগবে না। এই দাম ফাইজারের ভ্যাকসিনের ডোজের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কম। স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে ‘স্পুটনিক ভি’-এর প্রথম ডোজ দেওয়ার ৪২ দিন পর পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। মোট ৩৯টি করোনা কেসের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও জানান গামালেয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা আলেকজান্ডার জিন্টসবার্গ। বর্তমানে রাশিয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভেনেজুয়েলা, বেলারুশসহ আরো কয়েকটি দেশে ‘স্পুটনিক ভি’ টিকার ট্রায়াল চলছে বলে জানা গেছে। ‘স্পুটনিক ভি’ টিকার কার্যকারিতার নতুন তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, করোনার প্রতিষেধক প্রস্তুতির দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পর এবার রাশিয়াও শামিল হলো। বিশ্বে সবার আগে রাশিয়ায় গত আগস্টে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য গামালিয়া ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের তৈরি ভ্যাকসিনের নিবন্ধন দেওয়া হয়।