মঙ্গলবার,১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীতে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সেই যুবকের মৃত্যু

মুক্তখবর :
নভেম্বর ২৮, ২০২০
news-image

ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০ (স্টাফ রিপোর্টার): রাজধানীর শ্যামপুর জুরাইনে পেট্রল পাম্পে গায়ে অকটেন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় দগ্ধ রিয়াদ হোসেন (২০) মারা গেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামপুর জুরাইনের সালাউদ্দিন ফিলিং স্টেশনে সহকর্মী রিয়াদের শরীরে অকটেন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়াদ মারা যান। ইনস্টিটিউট থেকে রিয়াদের বাবা ফরিদ মিয়া তার ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, সালাউদ্দিন নামের ফিলিং স্টেশনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন রিয়াদ। চারজন অপারেটর মঙ্গলবার রাতে ডিউটিতে ছিলেন। তাদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান ইমন (২২) নামে এক অপারেটর ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রিয়াদ তাকে ডাকতে যান। ইমন ঘুম থেকে না ওঠায় তার গায়ে সামান্য অকটেন ছিটিয়ে তাকে ওঠানোর চেষ্টা করেন রিয়াদ। এতে ইমন ঘুম থেকে জেগে ক্ষিপ্ত হয়ে একটি বোতলে অকটেন ভরে রিয়াদের গায়ে ঢেলে দেন। এরপর ইমন ম্যাচের কাঠিতে আগুন ধরিয়ে রিয়াদের গায়ে ছুড়ে মারেন। এতে রিয়াদের শরীরে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। এ অবস্থায় ভোরেই পাম্পের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় রিয়াদের বাবা একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ইমন ছাড়াও দুই অপারেটর ফাহাদ আহমেদ পাভেল (২৮) ও শহিদুল ইসলাম রনিকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। জুরাইন কমিশনার রোডের ১৩২৭/১ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রিয়াদ। তার বাবা ফরিদ মিয়া গাড়িচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। চলতি বছর রিয়াদ সিদ্ধেশ্বরী কলেজে অনার্সে ভর্তি হন।