সোমবার,২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাভারে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশননের কর্মবিরতি

মুক্তখবর :
নভেম্বর ২৯, ২০২০
news-image

ফয়জুল ইসলামঃ কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকার সাভারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সাভার শাখা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। উল্লেখ্য, নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে দেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের মুখপাত্র বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাদের দাবি নিয়োগ বিধি সংশোধন সহ ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের বেতন গ্রেড ১৬ থেকে যথাক্রমে ১১, ১২ ও ১৩ তম গ্রেডে উন্নীত করণ। এসংক্রান্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক শেখ রবিউল আলম খোকন জানান, আমাদের এই তৃণমূল স্বাস্থ্য সহকারিদের কাজের অর্জনেই আজ বাংলাদেশ টিকাদানে বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৭টি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই সম্মাননাগুলো অর্জনে একমাত্র কারিগর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিগণ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যারা পশু ও প্রাণির চিকিৎসা প্রদান করেন তারা ১১তম গ্রেডে চাকুরি করছেন। কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব মানব শিশু এবং মাতৃ স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেও আমাদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত একমাস আগে স্বাস্থ্য সহকারিদের পক্ষ থেকে দেশের সকল সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করি। তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের এক মহা সমাবেশে আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন এবং চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আমরা হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বর্জন করলে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সচিব মহোদয় আমাদের দাবি মেনে নিয়ে একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই অদ্যাবধি বাস্তবায়ন হয়নি। শেখ রবিউল আলম খোকন প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত আরও জানান, আমরা এসব প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আজ (২৮ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের ১ লক্ষ ২০ হাজার অস্থায়ী টিকা দান কেন্দ্রের টিকা দান কার্যক্রম থেকে বিরত থাকছি। আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকবো। দাবি পূরণে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত এই কর্ম বিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা জানান, বিষয়টি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বিষয়, সকলের ভালো হয় এমন সিদ্ধান্তই তারা নিবেন আশা করা যায়। তবে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন এর এই দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতির ফলে সারা দেশে ১ লক্ষ ২০ হাজার অস্থায়ী টিকা দান কেন্দ্রের মধ্যে প্রতি দিন ২০ হাজার কেন্দ্র থেকে মা ও শিশু টিকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই বিষয়টির আশু সুরাহা না হলে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ‘শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য’ সেবা কার্যক্রম ব্যহত হবে।