শনিবার,২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিষখালীর তীরে জেগে ওঠা ছৈলার চর

মুক্তখবর :
ডিসেম্বর ১, ২০২০
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০ (ফিচার ডেস্ক): ছৈলা একটি লবণ সহিষ্ণু বন্য প্রজাতির বৃক্ষ। উপকূলীয় নদী তীরবর্তী চর, জোয়ার ভাটার প্রবহমান খালের চর ও প্লাবনভূমি জুড়ে কোন যত্ন ছাড়াই প্রকৃতিগতভাবে জন্ম নেয় এবং বংশ বৃদ্ধি হয় এ বৃক্ষের। ছৈলা গাছের শেকড় মাটির অনেক গভীর অবধি যায় তাই সহসা ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে কিংবা উপড়ে পড়ে না। ফলে উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতিবান্ধব গাছ হিসেবে ছৈলা বনবিভাগের সংরক্ষিত বৃক্ষ। কেবল কাঠের মূল্য বিবেচনায় নয়; মাটির সুদৃঢ় গঠনে পর্যায়ক্রমিক একটি দরকারি বৃক্ষ প্রজাতি হিসেবে ছৈলাকে বিবেচনা করা হয়। তাই দুর্যোগ প্রবণ উপকূলে প্রকৃতিবান্ধব ছৈলা গাছ কাটা নিষেধ। উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির দক্ষিণ জনপদ কাঠালিয়ার বিষখালী নদীর তীরে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে ওঠা নয়াভিরাম ‘ছৈলার চর’ পর্যটন খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে নানা সংকট। প্রতিকূল যাতায়াত ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এ স্থানে পর্যটকরা চিন্তিত থাকেন। তবু সেই সংকট উপেক্ষা করেই প্রকৃতির নয়নাভিরাম এই ছৈলার চর পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে। জানুয়ারি-মার্চ মাসেই মূলত পর্যটকের ভীড় থাকে ছৈলার চরে। বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সপরিবারে পিকনিকে আসে প্রকৃতির সাথে পরিচিত হতে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বিষখালীর তীরে জেগে ওঠা ছৈলার চর। ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিষখালী নদীতে এক যুগেরও আগে ৭০ একর জমি নিয়ে নদীর বুকে জেগে উঠে এক বিশাল চর। যেখানে রয়েছে লক্ষাধিক ছৈলা গাছ। আর ছৈলা গাছের নাম থেকেই জেগে ওঠা এ চরের নামকরণ করা হয়েছে ‘ছৈলার চর’। ছৈলা ছাড়াও এখানে কেয়া, হোগল, রানা, এলি, মাদার, আরগুজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে ঘেরা। ছৈলা গাছের ডালে ডালে শালিক, ডাহুক আর বকের ঝাঁক। তাই পাখির কিচিরমিচির ডাক সব সময় শোনা যায়। ভ্রমণ পিপাসুদের প্রতিদিনের পদচারণায় এখন মুখরিত ছইলার চর। কাঠালিয়া লঞ্চঘাট থেকে নৌপথে যেতে হয় ছইলার চরে। ২০১৫ সালে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন ছইলারচর স্থানটি পর্যটন স্পট হিসেবে চি‎হ্নিত করেছেন, তবে বাস্তবায়ন হয়নি ৫ বছরেও। এত সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সত্বেও ছৈলার চরে রয়েছে নানা সমস্যা। এখানে সড়ক পথে যাতায়াতে নেই কোন ব্যবস্থা। সিঁড়ি না থাকায় নৌ পথের পর্যটকদের ছৈলার চরে যেতে হচ্ছে হাঁটু সমান পানি ও কাদা ভেঙে। নেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগার। চরের মধ্যে হাঁটার জন্য কোন রাস্তা নেই। বিশ্রামের জন্য কোন বিশ্রামাগার না থাকায় অনেক পর্যটক সেখানে যেতে বিমুখ হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। পর্যটন এলাকাকে ঘিরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্ট হাউজ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু উন্নয়ন করেছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি এটিকে পর্যটন স্পট ঘোষণা করা হোক। সামাজিক আন্দোলন কাঠালিয়ার সভাপতি তুহিন সিকদার বলেন, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়তে হলে নদীর পাড় থেকে একটি ঘাটলা, সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য কিল্লার পাড় থেকে একটি সেতু, উন্নত মানের বেশ কিছু টয়লেটের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর পানীয় জলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত গেস্ট হাউজ, নিরাপত্তার জন্য প্রহরীর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনিকভাবে এটি বাস্তবায়ন হলে অবকাঠামো ও পর্যটন সুবিধা পেলে সরকার এখান থেকে রাজস্ব পাবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটন কর্পোরেশনকে ছৈলার চরকে পর্যটন স্পট তালিকাভুক্তির জন্য চিঠি দিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তালিকাভুক্তি হলেই পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা তারাই করবেন। জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনকে বলেছি সাধ্যমত ব্যবস্থা করতে।