শনিবার,১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তাইওয়ানে ২৫৫ দিন পর করোনা রোগী শনাক্ত

মুক্তখবর :
ডিসেম্বর ২৪, ২০২০
news-image

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালানো করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবচেয়ে সফল রাষ্ট্র বলা হচ্ছে তাইওয়ানকে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ রোধে কার্যকর ব্যস্থা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারার কারণেই তারা দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কিন্তু দীর্ঘ ২৫৫ দিন পর দ্বীপ দেশটিতে আবারও স্থানীয় পর্যায়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় এক নারীর শরীরে করোনা শনাক্তের পর সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সিএনএন জানিয়েছে, গত ১২ এপ্রিল থেকে করোনামুক্ত রয়েছে তাইওয়ান। এই সময়ে শুধুমাত্র বিদেশ থেকে আগতদের হিসাব রাখছিল দেশটি। বিদেশ থেকে কেউ তাইওয়ানে আসলে তাকে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়। এছাড়া তাদের করোনা পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক। এরমধ্যে কারো শরীরে করোনা শনাক্ত হলে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিদেশ থেকে আগত তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭০ জনে।

মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ৩৯ বছরের এক নারীর শরীরে করোনায় আক্রান্ত হন। এক বিদেশি পাইলটের সংস্পর্শে আসায় তিনি আক্রান্ত হন। ওই পাইলটও আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৮ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে এ দুটি ঘটনা ঘটে।

দীর্ঘদিন পর করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় এবং যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরনে দেখা দেয়ায় তাইওয়ানে উদ্বেগ থাকলেও যুক্তরাজ্যের সাথে বিমান চলাচল বন্ধ করবে না বলে এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে দেশটিতে সংক্রমণ রোধে যে কঠোর ব্যবস্থা জারি আছে তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাইওয়ানে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ২১ জুলাই। এর আগেই করোনার উৎসভূমি উহানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশটি। এছাড়া চীনের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কেউ আসলেও তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়।

এরপর মার্চের মধ্যে সব দেশ থেকে তাইওয়ানে ঢোকা বন্ধ করে দেয়া হয়। শুধুমাত্র কূটনৈতিক ও অন্যান্য জরুরি ক্ষেত্রে শিথিল অবস্থা জারি থাকে। পাশাপা করোনা পরীক্ষা ও আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়। বিধি-নিষেধ অম্যান্য করায় জরিমানার ব্যবস্থাও করা হয় দেশটিতে। এসব পদক্ষেপের কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণে সফল হয় তাইওয়ান।

করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারার কারণেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে তাইওয়ান। করোনার নুতন ধরনে বিভিন্ন দেশ নতুন করে লকডাউন দেয়ার পরিকল্পনা করলেও তাইওয়ান সেই দিকে যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যেই দীর্ঘ দিন পর নতুন করে দেশটিতে সংক্রমণ ধরা পড়লো।