শনিবার,২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কুসংস্কার পরিত্যাজ্য

মুক্তখবর :
ডিসেম্বর ২৭, ২০২০
news-image

ঢাকা, রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ (ফিচার ডেস্ক): কুসংস্কার বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশ্বাস মানুষের জীবনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। যুক্তি হীনভাবে অন্ধ অনুকরণের কারণেই কুসংস্কারের সৃষ্টি। পূর্ব-পুরুষদের দীর্ঘ দিনের লালিত রীতিনীতি, প্রবাদ-প্রবচন মানব মস্তিষ্কে অপবিশ্বাসের ভিত মজবুত করে। সমাজ, জাতি, গোত্র, ধর্ম ও অঞ্চলভেদে কুসংস্কারের মাত্রা হয়তো ব্যতিক্রম, কিন্তু এর কোনোটা একবারেই কুসংস্কারের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত নয়। কুসংস্কারের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে কুসংস্কারের মূলে কুঠারাঘাত করে বলেছেন, ‘জাহিলি যুগের সব কুপ্রথা আমার পায়ের নিচে নিক্ষেপ করা হলো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০৭৪) কুসংস্কার আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো শক্তিকে বিশ্বাস-অবলম্বন করেই ধাবিত হয়। সেই শক্তিকে কার্যসম্পাদনের নির্দেশক ভাবা হয়। যেমন ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হয়, হাতির ছবি ঘরে থাকলে সৌভাগ্য আসে, কালো বিড়াল বা প্যাঁচা দেখলে দুর্ভাগ্য হয়, কাকের ডাক কারও মৃত্যুসংবাদ বহন করে, টিকটিকির আওয়াজ কথার সত্যায়ন করে ইত্যাদি বিশ্বাস করা। পরীক্ষার আগে ডিম খেতে নেই, জোড়া কলা খেলে যমজ বাচ্চা হয়, ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসে, দোকানে সকাল-সন্ধ্যা আগরবাতি জ¦ালাতে হয় এবং দিনের শুরুতে বাকি দিতে নেই এ ধরনের অসংখ্য কুসংস্কার সমাজে ছড়িয়ে আছে।

এমন কিছু কুসংস্কার আছে যা শিরক ও কুফরের দিকে নিয়ে যায়। অজ্ঞতা, মূর্খতা ও অন্ধ আনুগত্যের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান লোপ পায়। ফলে কুসংস্কারের উৎপত্তি ও বিকাশ সাধন সম্ভব হয়। আল্লাহ ছাড়া কাউকে শক্তির উৎস হিসেবে বিশ^াস করা ইমানের দাবির বিপরীত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনিই বাদশাহ, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষাকর্তা, সবার ওপর বিজয়ী, নিজ হুকুম জারি করায় শক্তিমান এবং অহংকারের অধিকারী। মানুষ তার সঙ্গে যে শিরক করছে তা থেকে তিনি পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টির পরিকল্পনাকারী, তা বাস্তবায়নকারী ও রূপকার। সব ভালো নাম তারই। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তার পবিত্রতা ঘোষণা করছে। তিনি মহাশক্তিশালী; সুকৌশলী।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ২৩-২৪)

কোনো বিধবা কিংবা সন্তানহারা মহিলা কাউকে দেখলে অলক্ষুনে বলে তার স্পর্শ থেকে দূরে থাকা এবং পুরো দিনটাকে অশুভ বলে ধরে নেওয়া শিরকের নামান্তর। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো কিছুকে অপয়া ও অশুভ মনে করা শিরক।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৯১০)

পৃথিবীতে যা কিছু সংঘটিত হয়, সবই মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশনাতেই হয়। দ্বিতীয় কোনো পক্ষ বা শক্তির প্রভাব অমূলক এবং নিরর্থক। যদি অনুরূপ কোনো শক্তি বা পক্ষকে বিশ্বাস করা হয় তাহলে এটা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর শিরকের মতো মহাপাপের রোষানলে পড়লে পরকালীন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যা তিনি চান। আর যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৪৮)

মানুষের ইমান-আমলকে স্বচ্ছ ও খাটি রাখতে হলে কুসংস্কারমুক্ত জীবন গড়ার বিকল্প নেই। বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সামান্যতম চিন্তা করলেই কুসংস্কারের অসারতা বেরিয়ে আসে। অন্যান্য ধর্মের চেয়ে ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের জন্য কুসংস্কারে বিশ্বাস করাটা অধিকতর স্পর্শকাতর। কেননা কুসংস্কার বিশ্বাস করলে কিংবা আমল করলে অথবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করলে ইমান ও আকিদা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

ইসলামি জীবনবিধানে আলোচিত হয়েছে মানবজাতির চিরন্তন পথনির্দেশনা, মানুষের প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তার নিয়ামত, আল্লাহতায়ালার অস্তিত্ব এবং একত্ববাদের প্রমাণাবলি। মানুষের সুস্থ বিবেক জাগ্রত করার পাশাপাশি সঠিক জ্ঞান অর্জন করলেই কুসংস্কার থেকে মুক্তি মিলবে। কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ, তাওহীদের ওপর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস, রিসালাতের পথ অনুসরণ এবং ইসলামি শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে এসব ভ্রান্তবিশ্বাস থেকে উত্তরণ ঘটবে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ দেখবে আলোর মুখ।