বুধবার,১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদের সাথে এড. এম এ মজিদের বিশেষ সাক্ষাৎকার

মুক্তখবর :
ডিসেম্বর ২৭, ২০২০
news-image

বিশেষ প্রতিনিধি: গত ২৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. জেনারেল (অবঃ) এম হারুন-অর-রশিদ বীর প্রতীকের সাথে জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন এড এম এ মজিদের তিন ঘন্টাব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী ও ইতিহাস সংক্রান্ত বিষয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. জেনারেল (অবঃ) এম হারুন অর রশিদ বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় এবং ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন একটি অনন্য সাধারণ সাফল্য। আমরা যারা পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছিলাম তারা জাতির সৌভাগ্যবান সন্তান। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে জাতিকে চরমত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে এবং ত্রিশ লক্ষ লোককে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। প্রায় পাঁচ লক্ষ নারী তার সম্ভ্রম হারিয়েছেন, এক কোটি লোককে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য যেসব জাতি যুদ্ধ করেছে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের বিপুল ত্যাগ একটি বিরল ঘটনা। এই ত্যাগের শৌর্য বীর্য ও বীরত্বে পরিপূর্ণ এবং বাঙালি নারী ও পুরুষ দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। উল্লেখ্য, বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালি নিধনে আতর্কিত আক্রমণ করে তখন বাংলাদেশের পাঁচটি ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়ান ছিল। ২৭শে মার্চ মেজর শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট অবাঙালি অধিনায়ক ও আরো দুই জন অফিসারকে বন্দি করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বিজয়ের পথে গ্রন্থটির লেখক তখন ছিলেন সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট। এই বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অসামান্য ঝুঁকিবহ। কেননা বাকি চারটি ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়ানের অবস্থা ও অবস্থান কোথায় ছিল তখন তারা সেটি জানতেন না। একটি প্রচলিত সেনাবাহিনী থেকে একটি মাত্র পদাতিক ব্যাটালিয়ন বিদ্রোহ করে সফল হবেÑসেটি ছিল অনেকটা অলিক কল্পনার মতো।  সেই বিদ্রোহে লে. হারুন-অর-রশিদ অতীব সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তারপর শুধু যুদ্ধ আর যুদ্ধ। সব যুদ্ধেই লে. হারুন রেখেছেন অমিত বিক্রমের স্বাক্ষর। মুক্তিযুদ্ধের প্রবাদপুরুষদের মধ্যে লে. হারুন-অর-রশিদ “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে রক্তঝরা সেই হিরন্ময় দিনগুলোর কথাই লিখেছেন সেসময়ের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম হারুন-অর- রশিদ, বীর প্রতীক।  ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ সাক্ষাৎকার শেষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার অসাধারণ অবদানের ঘটনাবহুল “বিজয়ের পথে” গ্রন্থটির লেখক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অবঃ) এম হারুন-অর-রশিদ বীর প্রতীক হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড পীস এন্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন এড. এম এ মজিদকে।