শনিবার,২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কেমন কাটলো বৈশ্বিক মহামারী বর্ষ ২০২০ ?

মুক্তখবর :
জানুয়ারি ৫, ২০২১
news-image

-তানিয়া সুলতানা হ্যাপি-

ভেবেচিন্তে দেখলাম একজন মানুষ হিসেবে জীবনের সবচেয়ে সেরা সময় কাটিয়েছি ২০২০ সালে। অন্যান্য বছরের মতো ব্যক্তিগত জীবনে ছিলো না খুব বেশি অস্থিরতা। ভুগতে হয়নি কোন রকম শারিরীক অসুস্থতায়। যেমনটা অন্যান্য বছরে ভুগেছি। কোভিড নাইন্টিনের কারনে পুরো পৃথিবী অসুস্থ হলেও আমার মতো আমার পরিবারের সবাইই বেশ সুস্থ ছিলেন। এমনকি আমার বয়োবৃদ্ধ নানী- দাদীকে নিয়ে ও কোনরকম শারীরিক অসুস্থতার দুঃসংবাদে প্রহর কাটাতে হয় নি। দুই মামার দুটো ফুটফুটে বাচ্চার আগমন ও ঘটেছে ২০২০ সালে। অসুস্থ পৃথিবীতে তাদের আগমন ঘটলেও তারা আল্লাহর রহমতে সুস্থভাবেই বেড়ে উঠছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির পুরোটা সময় বলতে গেলে আমি একাকী কাটিয়েছি। অথচ একটা বার ও আমার মনে হয়নি আমি একাকী আছি। আযানের সুমধুর সুরে প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছি আর কিছুটা সময় কাক, কবুতর, শালিক, চড়ুই পাখিদের কলকাকলীতে বিমোহিত হয়ে কাটিয়েছি। কিছুটা সময় বই পড়তাম। কিছুটা সময় লেখালেখি করতাম। কখনো অনলাইনে লুডু খেলেছি, কখনো আবৃত্তি, গান, নাটক -সিনেমা ডকুমেন্টারি, দেখে সময় পার করেছি। জীবনে আরো অনেকবার বেশ কিছু সময় আমাকে একাকী কাটাতে হয়েছিল, সেসব দিনগুলোতে আমি খুবই মনোকষ্টে ভুগতাম। তবে বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে একাকী কাটানো সময়টা উপভোগ করেছি কাজের মাধ্যমে। আমার মনে হয়েছে জীবনে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি বৈশ্বিক মহামারী করোনা বর্ষ ২০২০ সালে। তবুও করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উপলব্ধি করেছি সাধারণ মানুষের পাশে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে না দাঁড়াতে পারার যন্ত্রণা! অনেকটা অসহায়ত্ব নিয়েই নিজেকে আড়ালে রেখেছি লেখালেখিতে নিমগ্ন থেকে। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে জ্ঞানার্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি বই পড়েছি ২০২০ সালে। বছরের পুরো সময়টাতে লেখালেখির প্রতি ও ছিলাম খুব বেশি মনোযোগী। আত্মকাহিনী এবং তথ্যভিত্তিক লেখা দিয়ে লেখালেখির শুরু হলেও পুরো বছরটার বিভিন্ন সময়ে গাছের ডালপালার মতো আমার লেখালেখির ও অনেক শাখা-প্রশাখা গজিয়েছিল। বছরের পুরোটা সময় আমি লেখালেখির স্বাদ উপভোগ করেছি। লিখতে গিয়ে একধরনের আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে আমার লিখিত “প্রতিটা শব্দ আমার সম্পদ।” আবার কখনো কখনো লিখতে না পারার যন্ত্রণায় ও ভুগেছি। তবে লেখা শেষে অনুভব করেছি স্বর্গীয় অনুভূতি। ২০২০ সালে দুটো শিশুতোষ বই “শিশু মনে শেখ হাসিনা” ও “আমি হবো আগামীদিনের শেখ হাসিনা” ও ১ টি তথ্য ভিত্তিক বই “শিক্ষার্থীদের শেখ হাসিনা” সহ মোট ৩ টি প্রকাশিত বইয়ের লেখক হওয়ার সৌভাগ্য ও অর্জন করেছি। এবং এই বছরেই একজন প্রকাশক হিসেবে ও কাজ শুরু করছি। কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ বেশ কয়েকটি অনলাইন সাহিত্য গ্রুপ থেকে পেয়েছি “কবি” হিসেবে “সম্মাননা” স্মারক। সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচনী ট্রাইব্যাুল কর্তৃক পেলাম বহুল প্রত্যাশিত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে পুনরায় ভোট গণনার আদেশ। যদিও করোনার কারনে মামলার কার্যক্রম কিছুদিন বন্ধ ছিল। এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের এচিভমেন্ট। জনগণের অধিকার আদায়ে আমার নিষ্ঠা প্রকাশ পেয়েছে। জনগণের অধিকার আদায়ে আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে লড়েছি। এটিই আমার রাজনৈতিক ব্রত। এই রায় আমার একধরনের বিজয় ও বটে। যদি ও আদালতের বারান্দায় বসে আবারো দেখেছি সত্য, উপলব্ধি করেছি বাস্তবতা। নভেম্বর মাসে পরিবারের জন্য একটি সুখবর পেলাম। সেটি হলো আমার একমাত্র ছোট ভাই এ্যামিল সিনিয়র অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে প্রমোশন পেয়েছে। বছরটি শেষ করেছি “২০ সালে বিশ্ব ভ্রমণ” প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। সারাবছরের সালতামামি লিখেছি এই লেখায়। ২০২০ সালে কাজের একটি প্রাপ্তির সংবাদের মাধ্যমে ২০২১ সাল শুরু হলো। সুসংবাদটি হলো আমার বান্ধবী আলেয়া ফেরদোসী ফোন করে জানালো আইডিয়াল প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত ক্যাডেট স্কুলের কোচিং গাইডে সাম্প্রতিক প্রসঙ্গে “আমি হবো আগামীদিনের শেখ হাসিনা” বইয়ের রচয়িতা কে? তানিয়া সুলতানা হ্যাপি। এই প্রশ্নটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা আমার জন্য অনেক গর্বের। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করি ২০২০ সালের মতো যেন ২০২১ সালে ও বাঁচি আত্মতৃপ্তি ও কাজের সাফল্য নিয়ে।

-লেখিকা 
সহ তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক 
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ