শনিবার,২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিপ অ্যাপ: হঠাৎ করেই কেন ডাউনলোডের হিড়িক?

মুক্তখবর :
জানুয়ারি ১৬, ২০২১
news-image

ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ (আইটি ডেস্ক): কয়েকদিন ধরেই স্মার্টফোন ভিত্তিক অ্যাপ ইমো-হোয়াটসঅ্যাপের পরিবর্তে তুরস্কের তৈরি একটি ভিডিও কলিং ও মেসেজিং অ্যাপ ‘বিপ অ্যাপ’ ডাউনলোডের হিড়িক পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এটা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কী এমন আছে যেটা ‘ইমো-হোয়াটসঅ্যাপ’ দিতে পারেনি অথচ ‘বিপ অ্যাপ দিচ্ছে? এর আগেই জেনে নিতে হবে বিপ অ্যাপ কী? বিপ অ্যাপ আসলে তুরস্কের তৈরি একটি মেসেজিং অ্যাপ যেখানে গ্রাহক হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমো কিংবা ভাইবারের মত অডিও-ভিডিও কলসহ মেসেজ আদান প্রদান করতে পারবেন। যেখানে এই অ্যাপের তরফ থেকে গোপনীয়তা রক্ষার বিশেষ এক প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে এটি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড, অর্থাৎ ভয়েস কল এবং মেসেজ আদান-প্রদান গোপন থাকবে এবং এটি কেউ হ্যাক করতে পারবে না। এই অ্যাপ অনেকটা হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য ভিডিও কলিং ও মেসেজিং অ্যাপের মতো করেই কাজ করে। একইসাথে আইওএস চালিত আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড চালিত মোবাইল ফোনে এই অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়। এছাড়া ডেস্কটপেও ব্যবহার করা যায় বিপ অ্যাপ। উল্লেখ্য, মোবাইল ফোন কোম্পানি টার্কসেল বিপ অ্যাপ উদ্ভাবন করে ২০১৩ সালে। বিশ্বের ১৯২টি দেশে এই অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। বিবিসির খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের আগে পর্যন্ত বিপ অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয়েছে জার্মানিতে এবং সেখানে এর ব্যবহারও বেশি হয়। এছাড়া, ফ্রান্স এবং ইউক্রেনেও বহু মানুষ বিপ অ্যাপ ডাউনলোড করেছে। বর্তমানে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিপ অ্যাপ-এর দারুণ চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন টার্কসেল-এর ওই কর্মকর্তারা। সামাজিক মাধ্যমে ইমো-হোয়াটসঅ্যাপ বয়কটের পরেই বেশি জনপ্রিয় হয়েছে এই বিপ অ্যাপ। তবে বাংলাদেশে এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা সবাইকে ছাড়িয়েছে। গুগল প্লে স্টোর থেকে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের অ্যাপ ডাউনলোডের র‍্যাংকিং বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে যে বিপের ডাউনলোড মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৯২ ধাপ এগিয়ে সবার শীর্ষে উঠে এসেছে। কিছুদিন আগেই হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্য তারা তাদেরই সহযোগী কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করা বার্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা বজায় থাকবে কি না – তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে বিপ অ্যাপ। অ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এখানে সিক্রেট চ্যাট করার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোন ব্যবহারকারী যদি নির্দিষ্ট সময় পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে দিতে চান, তাহলে সে অনুযায়ী সময় সেট করা যাবে। পরে আর থাকবে না কোন ধরণের তথ্য। তুরস্কের পত্রিকা ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ প্রাইভেসি পলিসি পরিবর্তন করার কথা ঘোষণা করার পর থেকে প্রতিদিন ২০ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে বিপ। এখন পর্যন্ত সর্বমোট এই অ্যাপ ডাউনলোড হয়েছে ছয় কোটি বার। অচিরেই এই অ্যাপ ডাউনলোড ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন টার্কসেল-এর কর্মকর্তারা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিপ অ্যাপের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ প্রাইভেসি নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সচেতন। বাংলাদেশেও অনেক ব্যবহারকারী প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দেন। সেজন্য অনেকে বিপ অ্যাপ ডাউনলোড করে থাকতে পারেন। আবার সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অফিস যখন হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে বিপ ব্যবহারের ঘোষণা দিলো, তখন এর একটি প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এবং সেই উষ্ণতার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমেও। যেটা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশেও বেশ শক্ত অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে।