শুক্রবার,৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৌরসভা নির্বাচন: নবীগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০

মুক্তখবর :
জানুয়ারি ১৬, ২০২১
news-image

ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ (নিজস্ব প্রতিনিধি): হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। নবীগঞ্জের গয়াহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সফিক মিয়া (২২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি চরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া একই গ্রামের মিজান মিয়া (৩৫), নাহিদ মিয়া ও সুজাপুর গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা জাহেদ রুবেলসহ আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই সংঘর্ষের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নবীগঞ্জ পৌর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেল দাবি করেন, বিএনপি প্রার্থী ছাবির আহমেদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাকা বিতরণ করতে যাওয়ায় বাধা দিলে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মুকিত চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, গতকাল গয়াহরি গ্রামে তিনি অবস্থান করছিলেন। এ সময় তারা খবর পান গয়াহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে বিএনপির প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তাঁর কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেলের ওপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেছে। অপরদিকে, বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরীর দাবি, তিনি গয়াহরি গ্রামের রবিন্দ্র দাশ মেলাইর বাড়িতে রাতে সংক্রান্তির নিমন্ত্রণে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় ওই বাড়ির কাছে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেলের ভাই শায়েল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় চলাকালে প্রার্থী রাহেল চৌধুরী সেখানে পৌঁছান এবং উত্তেজিত হয়ে ছাবির আহমেদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন রাহেল। এ সময় তিনি গাড়ি নিয়ে চলে যেতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় নৌকার সমর্থকেরা বিএনপি কর্মী সফিক মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তাঁর পেটের ভুড়ি বেরিয়ে যায়। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় রাহেল তাঁর প্রাইভেটকারটি নিজেই ভাঙচুর করেছেন বলে দাবি করেন ছাবির আহমেদ। এ সময় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষে প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হন। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।