বুধবার,৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় সার্চ ইঞ্জিন সেবা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি গুগলের

মুক্তখবর :
জানুয়ারি ২৪, ২০২১
news-image

অস্ট্রেলিয়ায় সার্চ ইঞ্জিন সেবা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে গুগল। মুনাফার ভাগ গণমাধ্যমকে দেয়ার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার আইন প্রণয়নের উদ্যোগের সূচনায় এমন হুমকি দিল সার্চ ইঞ্জিনটি। নতুন আইনটি বাস্তবায়িত হলে সংবাদ কনটেন্টের জন্য দেশটির প্রকাশকদেরও লাভের বখরা দিতে বাধ্য থাকবে গুগল। শুধু গুগল নয়, ফেসবুকসহ অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও প্রস্তাবিত এই আইনের আওতায় আসবে। খবর বিবিসি ও এএফপির। গুগলের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ আইন হলে গুগল ও ফেইসবুককে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ প্রকাশকদের সঙ্গে বসে কনটেন্টের মূল্য নির্ধারণের জন্য আলোচনায় আসতে হবে। এ বিষয়ক শুনানিতে শুক্রবার গুগল অস্ট্রেলিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেল সিলভা বলেছেন, এধরনের আইন প্রয়োগ অস্ট্রেলিয়ায় গুগলের সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। যে খসড়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটা যদি আইন হিসেবে পাস হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ায় গুগল সার্চ বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় তাদের থাকবে না। গুগলের হুমকি প্রসঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, তার দেশের আইনপ্রণেতারা কোনো হুমকিতে পিছপা হবেন না। তার সরকার চলতি বছরই পার্লামেন্টে আইনটি পাস করার বিষয়ে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ার অন্য আইনপ্রণেতারাও গুগলের ওই বক্তব্যকে ব্ল্যাকমেইল এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুগলের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও তার ব্যতিক্রম নয়। অস্ট্রেলীয় সরকার বলেছে, গুগল সেবা এখন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতো আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। আর সেবার বাজারে প্রতিষ্ঠানটি একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে। তারা অনেক লাভ করছে এবং লাভের ভাগ অবশ্য গুগল সংবাদ প্রকাশকদেরও দেয়া উচিত। নতুন আইন প্রণয়নের কারণও ব্যাখ্যা করেছে অস্ট্রেলীয় সরকার। তাদের তথ্য অনুযায়ী ২০০৫ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ছাপা পত্রিকাগুলোর বিজ্ঞাপন কমে গেছে ৭৫ ভাগ। ফলে অনেক পত্রিকা খরচ সামলাতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের ছাঁটাই করেছে। গুগল অস্ট্রেলিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রস্তাবিত এই আইন ইন্টারনেট ও অনলাইনের কনসেপ্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এরকম হলে আর্থিক এবং ব্যবস্থাপনার যে ঝুঁকি তৈরি হবে, তাতে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের সেবা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।