মঙ্গলবার,৯ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কেরানীগঞ্জে খালের পার ঘেঁষে বহুতল ভবন; মৃত্যুর হাতছানি

মুক্তখবর :
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১
news-image

মাসুম পারভেজ : নিয়মের তোয়াক্কা নেই ভবন নির্মাণে, রাজধানীর কেরানীগঞ্জে যেন প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর হাতছানি! খালের পার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল ভবন, এই ভবন মালিকদের বেশির ভাগই নেননি কোনো সরকারি অনুমোদন। প্রশাসন এসব ভবনের ব্যাপারে তদারকি না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় খাল। এসব খালের বেশির ভাগ আগেই বেদখল হয়ে গেছে। নতুন করে শুভাঢ্যা, আঁটি ও কলাতিয়া খালের দুই তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বৈধ-অবৈধ বহুতল ভবন। তবে এসব ভবনের বেশির ভাগেরই নেই রাজউকের অনুমোদন ও সঠিক নকশা। যে যেভাবে পেরেছেন ভবন নির্মাণ করেছেন। এর ফলে একের পর এক ঘটছে ভবন হেলে পড়ার মতো ঘটনা। গেল তিন বছরে শুভাঢ্যায় চারটি বাড়ি হেলে পড়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল শুভাঢ্যা কালীবাড়ি খালপার এলাকায় একটি তিনতলা ভবন হেলে পড়ে। ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি শুভাঢ্যা খালের বেগুনবাড়ি ব্রিজের কাছে একটি পাঁচতলা ভবন হেলে পড়ে। একই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি কাজী বাড়ি মোড়ে একটি ছয়তলা ভবন হেলে পড়ে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কালিন্দী ইউনিয়নের মধ্য চড়াইল এলাকায় ডোবার তীরে গড়ে ওঠা তিনতলা ভবনটি উল্টে পড়ে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে অভিন্ন চিত্র। খালের দুই পার ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। যে যেভাবে পেরেছে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করেছে। খালের তীরে নির্মাণ করায় ঝুঁকিতে রয়েছে অনেক ভবন। স্থানীয়রা বলছে, দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে তৎপরতা দেখায়, পরে আর কিছুই হয় না। প্রশাসন যদি সঠিকভাবে তদারকি করে তাহলে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে না। এখনই প্রশাসনের উচিত সব কিছু নজরদারিতে আনা, নাহলে আবারও দেখতে হবে বড় কোন দুর্ঘট

া। শুভাঢ্যা এলাকার বাসিন্দা সেলিম জানান, এসব ঘরবাড়ি যার যার নিজস্ব জায়গাতে করেছেন। তবে খালের তীর ঘেঁষে নির্মাণ করায় ভবনগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। ভবন নির্মাণে সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। বর্ষার সময় যখন খালে পানি আসে তখন খালের তীরের মাটি নরম হয়ে যায়। তখন ভবন হেলে পড়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা থা

ে। এ বিষয় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ বলেন, খাল কিংবা নদীর পারে যেসব নকশা অনুমোদবিহীন ভবন, অনুমোদন বর্হিভূত তলা বাড়ানো ভবন এবং নকশা বর্হিভূত ভবন নির্মিত হয়েছে তা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। আবার যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে সে বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। এরই মধ্যে মধ্য চড়াইল এলাকায় যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার আশপাশের কয়েকটি বাড়িকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। খাল, জলাশয় ও নদীর তীরে যেসব বহুতল ভবন রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।