রবিবার,১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডালবুগঞ্জ চেয়ারম্যান উপ-নির্বাচন, উন্নয়নের স্বপ্ন ছড়িয়ে চলছে প্রার্থীদের শেষ মুহুর্তের প্রচারনা

মুক্তখবর :
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১
news-image

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া: ২৮ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১১ নং ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় সরগরম এখন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রামীন জনপদ থেকে হাট বাজার। নিজ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে ভোটারদের বাড়ী বাড়ী যাচ্ছেন প্রার্থীরা। গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের ষ্টলে চলছে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আড্ডা। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ন ভাবেই চলছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনা। নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় ইসি কার্যালয় হার্ড লাইনে থাকায় প্রভাবশালী প্রার্থীর সাঙ্গ পাঙ্গরা ভোটারদের মাঝে নির্বাচনের দিন সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন হওয়া নিয়ে গুজব ছড়ালেও আমলে নিচ্ছেন না ভোটাররা। কেননা এ উপজেলার স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দু’টি পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন বলে দৃড় প্রত্যয় দেখা গেছে ভোটারদের মাঝে।

এদিকে ’গ্রাম হবে শহর’ ভিশন নিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন ছড়িয়ে শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: ওয়ালী উল্লাহ নান্নু সিকদার। তিনি চেয়ারম্যান হিসেব জয়ী হলে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন ভোটারদের মাঝে।

ডালবুগঞ্জের এ উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরও রয়েছেন চার প্রার্থী। আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ’র হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আ: মালেক ও স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের ওয়াদুদ সিকদার। এদের মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াদুদ সিকদারকে কুপিয়ে জখম ও ওয়ালী উল্লাহ নান্নু সিকদারকে ভয় ভীতি প্রদর্শন সহ তার কর্মী সমর্থকদের পিটিয়ে জখম করেছে নৌকা সমর্থকরা।

এ ব্যাপারে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ওয়ালী উল্লাহ নান্নু সিকদার বলেন, ’১১ নং ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নকে একটি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে আমি নির্বাচন করছি। আমি নির্বাচিত হলে এ ইউনিয়নকে একটি কৃষি সমৃদ্ধ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। এছাড়া ইউনিয়নের প্রত্যেকটি মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবা শত ভাগ নিশ্চিত করবো।’

নান্নু সিকদার আরও বলেন, ’আমার বাবা মরহুম রাজ্জাক সিকদার ডালবুগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। আমার বোন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের বার বার নির্বাচিত নারী ইউপি সদস্য। আমার পরিবার দীর্ঘ ৫০ বছর যাবৎ ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের পাশে রয়েছে, তাই সাধারন মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনে নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের শুরু থেকেই আমার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচারনায় বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ’বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে মানুষ স্বতস্ফুর্ত ভাবে নৌকা মার্কার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করায় নির্বাচনে পরাজয় আঁচ করতে পেরে কোন কোন প্রার্থী প্রলাপ বকছেন।’

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার আবদুর রশিদ বলেন, ’২৮ ফেব্রুয়ারী ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে ৮৭১২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৯টি ভোট কেন্দ্রের ২৩টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহন করা হবে। অবাধ, নিরপেক্ষ, ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনের একদিন আগ থেকে ৩জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ১জন জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমান আদালত নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ভোটারদের নিরাপত্তায় ভোট কেন্দ্র সহ নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একাধিক ষ্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিম।’

প্রসংগত, ২৭ নভেম্বর ২০২০ ডালবুগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস সালাম সিকদার’র মৃত্যুতে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।