রবিবার,১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজারহাটে তিস্তা বালুচরে এখন সবুজে সমরোহ

মুক্তখবর :
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১
news-image

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: প্রমত্তা তিস্তা এখন নব্যতা হারিয়ে মৃত নদীতে পরিনত প্রায়। পানি বিহীন নদীর বুকে ধু-ধু বালুচর। মাঝে মাঝে সবুজের সমারোহ। চাষাবাদ হচ্ছে ইরি বোরো,ভুট্্রা,বাদাম,পিয়াঁজ,মিষ্টি কুমড়া,তিল,তিষি,কাউন সহ রকমারী ফসল। কোথাও কোথাও তৈরী হচ্ছে ঘড়বাড়ি ও দোকানপাট। সরেজমিনে দেখা গেছে,রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নে তিস্তা নদীর শতশত হেক্টর জমিতে বালুর স্তর পরেছে। নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে নৌ রুট। যুগযুগ ধরে নব্যতা হারিয়ে তিস্তা নদী শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি শুন্য হয়ে পরে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে নুড়ি পাথর ,কাকনযুক্ত বালি ও মাটি বয়ে আসায় দ্রুত নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। এরমধ্যে অতিরিক্ত বালু ও কাকনযুক্ত মাটির স্তর আবাদী জমির উপর পরে অনাবাদী করে তুলছে। বিশেষ করে গত ৩ দশকেরও বেশী সময় ধরে ভারতীয় পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় কেটে জনবসতি গড়ে তোলার কাজ চলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলছে তিস্তা নদী। নানা প্রয়োজনে নদী পথে এক স্থান থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মানুষকে এখন নদীর বুক জুড়ে জেগে উঠা চরের মাইলকে মাইল রাস্তা পাঁয়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও মাঝ নদীতে পানি থাকলেও নাব্যতা সংকটের কারনে নৌ চলাচল বন্ধ হয়েছে। অনেক স্থানে তীরবর্তী এলাকার জনসাধারন সচারাচর পায়ে হেঁটেও হাঁটু জল পাড়ি দিচ্ছে। অপরদিকে প্রতি বছর তিস্তা নদীতে নতুন নতুন স্থানে চর পরে বালুর স্তর বাড়ায় অনেক পলিময় উর্বর জমি অনাবাদী হয়ে পরছে। প্রতি বছর বন্যার কারণে নদী চরের অনেক জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া শুস্ক মৌসুমে পানির স্তর অনেক নীচে নেমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও ইরি- বোরো চাষাবাদ করতে পারেনি কৃষকরা। এতদাঞ্চলের বিপুল পরিমান জমি প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। নানা কারণে প্রতি বছর আবাদী জমি আশংকা জনকহারে কমে যাচ্ছে। তবুও থেমে নেই কৃষকরা। উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট গ্রামের সিরাজুল (৫৪) জানান,এক সময় এই চরগুলোতে কোন চাষাবাদ হতো না,এখন আলু,বাদাম,ভুট্রা,মিষ্টি কুমড়া,পিয়াজ,রসুন,কাউন সহ রকমারি আবাদ হচ্ছে। চরবিদ্যানন্দ গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫২) ও আব্দুস ছালাম (৬৫) বলেন,আলু ও পিয়াঁজের বাম্পার ফলনের পর এখন আমরা বাদাম,রসুন,মিষ্টি কুমড়া ও কাউন চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা বেগম জানান,রাজারহাট উপজেলায় চরের মোট ১৬৯০ হেক্টর জমির মধ্যে ১৩৫০হেক্টর জমি চাষাবাষের আওতায় এসেছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রনোদনা পূনর্বাসন ও কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে । চরে আলুর বাম্পার ফলনে তিনি সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।