রবিবার,১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

৪৮ হাজার শিক্ষকের টাইম স্কেল সংক্রান্ত রিটে রুল খারিজ

মুক্তখবর :
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১
news-image

ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (স্টাফ রিপোর্টার): সারা দেশে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৮ হাজার শিক্ষকের টাইম স্কেল সংক্রান্ত রিটে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এ রায় দেন বলে জানান রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সারা দেশে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষকের টাইম স্কেল ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পরিপত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে রিটকারীদের আবেদন করতে বলেছেন আদালত। তিনি জানান, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন শিক্ষকেরা। ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ গত ১৩ জানুয়ারি তিন সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষকের টাইম স্কেল সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী শুনানি শেষে আজ রায়ের দিন ধার্য ছিল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। গত বছরের ১২ আগস্ট বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘টাইম স্কেল’-এর সুবিধা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা রিট করেন। তখন হাইকোর্ট বিভাগ পরিপত্র স্থগিত করে রুল জারি করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ১৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট হাইকোর্ট আদেশ স্থগিত করেন। পরে স্থগিতাদেশ তুলে দিতে শিক্ষকেরা আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলাটি নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন । গত বছরের ১২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করে। ওই আদেশের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ হাজার শিক্ষকের ক্ষেত্রে টাইম স্কেল বাতিল করে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির পক্ষে এ রিট দায়ের করেন। গত বছরের ৩১ আগস্ট ওই রিটের শুনানি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশটি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়সহ মামলার সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও গত ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৪৮ হাজার শিক্ষকের ক্ষেত্রে টাইম স্কেল বাতিল করে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়।