সোমবার,১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গরমে শিশুর ডায়রিয়া

মুক্তখবর :
মার্চ ৯, ২০২১
news-image

অতিপরিচিত রোগ ডায়রিয়া। গরমে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রকোপ বড়দের থেকে বেশি দেখা যায়। শিশুদের তুলনায় বড়দের এ ধরনের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বেশি। তাই শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানা জরুরি

লক্ষণ

 দিনে তিন বা তার বেশিবার পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে।

 বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবেই ৮ থেকে ১০-বার পায়খানা করতে পারে। পায়খানা অনেক সময় সবুজ এবং চটচটে হয়। এ ধরনের পায়খানাকে ডায়রিয়া বলা যাবে না।

 ছয় মাস থেকে দুই বছরের বাচ্চাদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ ভাইরাল ইনফেকশন। এ ধরনের ডায়রিয়ায় মলের চেয়ে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, সঙ্গে বাচ্চার বমি থাকতে পারে।

 এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ার কারণে যে ডায়রিয়া হয় তাতে জ্বর, পেটে ব্যথা এবং মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

 প্যারাসাইটিক ডায়রিয়ায় বাচ্চার মলটি একটু সবুজাভ এবং দুর্গন্ধযুক্ত হয়, সেই সঙ্গে পেটে ব্যথা থাকে।

 এ ছাড়া কোনো খাবার হজমে সমস্যা থাকলে অথবা জেনেটিক কিছু সমস্যায় অথবা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলেও ডায়রিয়া হতে পারে।

 ঘন ঘন পাতলা পায়খানা।

 পেটে ব্যথা।  বমি।  জ্বর।

 প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।

করণীয়

 ছয় মাসের নিচের বয়সের বাচ্চার ডায়রিয়া হলে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

 ছয় মাসের বেশি বয়সের বাচ্চাকে ঘন ঘন, বিশেষ করে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর পরিমাণমতো ওরস্যালাইন খাওয়াতে হবে। ওরস্যালাইন সঠিক নিয়মানুযায়ী বানাতে হবে। এটি বাচ্চার পানিস্বল্পতা এবং শরীরে লবণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমাবে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ ঠিক রাখবে।

 অন্যান্য পানীয় যেমন ডাবের পানি, ভাতের মাড় ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

 বাচ্চাকে কাঁচকলা রান্না বা সেদ্ধ করে খাওয়াতে হবে।

 জিংক সিরাপ বাচ্চার বয়স অনুযায়ী পরিমাণমতো শুরু করতে হবে।

 বাচ্চার বমি হলে অল্প অল্প করে একটু পরপর ওরস্যালাইন খাওয়াতে হবে এবং সেই সঙ্গে বমির জন্য অন্টিইমেটিক সিরাপ শুরু করতে হবে।

 বাচ্চা অতিরিক্ত বমি করলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেলে, খিঁচুনি হলে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে, পেটে প্রচন্ড ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

প্রতিরোধ

 বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

 প্রতিবার খাবার খাওয়ার আগে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে।

 বাচ্চার খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে।

 ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

 দুই বছরের বেশি বয়সের বাচ্চাকে ছয় মাস অন্তর অন্তর ক্রিমির ওষুধ খাওয়াতে হবে।

 সময়মতো বাচ্চাকে রোটাভাইরাসের টিকা দিতে হবে।