বুধবার,১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আয় বাড়াতে রেমিট্যান্সে ঝোঁক ব্যাংকগুলোর

মুক্তখবর :
মার্চ ২১, ২০২১
news-image

করোনায় ব্যাংকের ঋণ প্রবাহ কমেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপির ওপর ছাড় থাকায় পুরোনো ঋণের আদায়ে অগ্রগতি ছিল না। তবে এই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় অনেক ব্যাংক বেশি করে রেমিট্যান্স এনে আয় বাড়াতে চেষ্টা করে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফলতাও পেয়েছে। এ জন্য শাখা ব্যবস্থাপকদের নিয়মিত তাগাদাসহ নানামুখী নির্দেশনা দিতে থাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তিনটি ব্যাংক সরকারের প্রণোদনার সঙ্গে নিজস্ব উৎস থেকে ১ শতাংশ করে বাড়তি প্রণোদনা দেয়। এ ধরনের সক্রিয় তৎপরতার ফলে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে গত বছর শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে রূপালী ব্যাংক। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে থাকা অন্য কয়েকটি ব্যাংকও সামনের কাতারে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২০ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালে রূপালী ব্যাংক ৭৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এনেছে। ২০১৯ সালে এই ব্যাংকটি রেমিট্যান্স এনেছিল ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সরকারের দেওয়া ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ যোগ করে মোট ৩ শতাংশ প্রণোদনা দিই। এর ফলে আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো বেড়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত শাখা ব্যবস্থাপকদের তাগাদা দিয়ে তারা যাতে রেমিট্যান্সের টাকা দ্রুত ছাড়া করতে চেষ্টা করে।’ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে সরকার। এ জন্য জাতীয় বাজেট থেকে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে সরকার। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স আহরণ বেড়েছে ৮২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই ব্যাংকটি ২০২০ সালে রেমিট্যান্স আনে ৬৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০১৯ সালে ব্যাংকটি ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এনেছিল। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল অগ্রণী ব্যাংক। ২০২০ সালে এই ব্যাংকটির রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ৪০ দশমিক ২৬ শতাংশ। আলোচ্য বছরে অগ্রণী ব্যাংক ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে আনে। ২০১৯ সালে ব্যাংকটি দেশে রেমিট্যান্স এনেছিল ১৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই ব্যাংকটিও রেমিট্যান্সে সরকারের দেওয়া ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা যোগ করে মোট ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেয়। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া। ২০২০ সালে এই ব্যাংকটির রেমিট্যন্স বেড়েছে ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে ৫ম অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০২০ সালে এই ব্যাংকটি রেমিট্যান্স আনে ৫০ কোটি ডলার। ২০১৯ সালে ব্যাংকটি রেমিট্যান্স এনেছিল ৪২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা সোনালী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০২০ সালে এই ব্যাংকটি রেমিট্যান্স এনেছিল ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০১৯ সালে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসে ১২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ ৭-এ থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই ব্যাংকটিও রেমিট্যান্সে সরকারের দেওয়া প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা যোগ করে। ২০২০ সালে এই ব্যাংকটি রেমিট্যান্স আনে ২০২ কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০১৯ সালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক রেমিট্যান্স আনে ১৯৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ ছাড়া এনসিসি ও জনতা ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ও ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০২০ সালে এনসিসি ব্যাংক রেমিট্যান্স আনে ৫৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। জনতা ব্যাংক রেমিট্যান্স আনে ৯২ কোটি ডলার। আলোচ্য ব্যাংকগুলোর রেমিট্যান্স বাড়লেও কমেছে পূবালী ব্যাংকের। ২০২০ সালে এই ব্যাংকটি প্রায় ৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আনে। আগের বছর ব্যাংকটির আনা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৬৩ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৬৮ কোটি ডলার; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ের রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা চালুর পর থেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনায় বিশে^র অনেক দেশে রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব পড়লেও বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম। সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ায় বিশে^র অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়াতে উৎসাহ দেখাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ওই অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার।