শুক্রবার,৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনের আগুন এখনো নেভেনি

মুক্তখবর :
মে ৪, ২০২১
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১ (নিজস্ব প্রতিনিধি): সুন্দরবনে আগুন লাগার পর ২২ ঘণ্টা পার হলেও পুরোপুরি নেভেনি। এখনো অল্প কিছু এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস, বনবিভাগ ও স্থানীয় গ্রামবাসী। তবে বনে কীভাবে আগুন লাগল তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি বনবিভাগ। আগুনের ঘটনায় বনবিভাগের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার সকাল থেকে তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

সোমবার বেলা এগারোটা নাগাদ সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি টহল ফাঁড়ি এলাকার ২৪ নম্বর কম্পার্টমেন্টে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। সোমবার সন্ধ্যায় সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. মঈনুদ্দিন খান।

তদন্ত কমিটির প্রধান সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদিন বলেন, সুন্দরবনে লাগা আগুন নেভাতে দ্বিতীয় দিনের মতো কাজ শুরু হয়েছে। বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, বনবিভাগ ও স্থানীয় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। সোমবার গভীর রাতে বৃষ্টি হওয়ায় দারুণ উপকার হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বনের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল সকাল থেকে তা আর দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে। আজও বনের এই এলাকায় আকাশে মেঘ রয়েছে। বৃষ্টি হলে আরও উপকার হবে।

মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিস মরা ভোলা নদী থেকে পানি তুলে আগুনের এলাকায় পানি ছিটাচ্ছে। গ্রামবাসী ও বনবিভাগের কর্মীরা ফায়ার লাইন কাটার কাজ করছে। সবাই যেভাবে কাজ করছে তাতে আজকের মধ্যে বনের আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন এই বন কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, বনের আগুন লাগার কারণ ও আগুনে বনজ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণে বনবিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এলাকার চার শতক বনভূমি পুড়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বনকর্মকর্তা বলেন, যে এলাকাতে আগুন লেগেছে সেই এলাকায় লতাগুল্ম জাতীয় গাছপালাই বেশি রয়েছে। এই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। এই গাছের পাতা পড়ে গাছের নিচেই পাতার স্তুপ হয়ে রয়েছে। এ বছর রৌদ্রের তাপদহ অনেক। বৃষ্টিপাত নেই। ফলে এই পাতা পড়ে ওই এলাকায় এক ধরনের মিথেন গ্যাসের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড রোদ্রের তাপে মিথেন গ্যাস থেকে আগুন জ্বলতে পারে। এখানে লাগা আগুন একেবারে মাটির নিচ থেকে আস্তে আস্তে বাড়ছে। মিথেন গ্যাস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ওই কর্মকর্তা।