বৃহস্পতিবার,২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রায়হান হত্যা: এসআই আকবরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

মুক্তখবর :
মে ৫, ২০২১
news-image

ঢাকা, বুধবার, ০৫ মে ২০২১ (নিজস্ব প্রতিনিধি): সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক রায়হান আহমদের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (বরখাস্ত) প্রধান আসামি করে পাঁচ পুলিশসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর সিলেট পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান। গত ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার প্রয়াত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোন থেকে বাসায় কল করে রায়হান বলেছিলেন তাড়াতাড়ি ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে গিয়ে তাকে বাঁচাতে। পরে তার চাচা ফাঁড়িতে ছুটে গেলেও পুলিশ জানায়, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে মর্গে রায়হানের লাশ পান স্বজনরা। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যুর ধারায় মামলা করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই। পিবিআই দায়িত্ব নেওয়ার পর রায়হানের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। রায়হান হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে বরখাস্তের পর গত ১২ অক্টোবর তিনি গা-ঢাকা দেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন দেশব্যাপী এমন আলোচনা-সমালোচনার পর কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তে ধরা পড়েন আকবর। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এসএমপির তদন্ত কমিটির কাছে প্রথমে হত্যার বিষয়টি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা অস্বীকার করেন। পরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করে। এর ভিত্তিতে ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবর ছাড়াও পুলিশের আরও ৩ সদস্য এবং ১ জন সোর্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন- বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্ত এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাস এবং সোর্স সাইদুর শেখ।