বৃহস্পতিবার,২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইসরাইলি সেনার গুলিতে গুরুতর আহত ফিলিস্তিনি অভিনেত্রী

মুক্তখবর :
মে ১৬, ২০২১
news-image

ঢাকা, রবিবার, ১৬ মে ২০২১ (বিনোদন ডেস্ক): ফিলিস্তিনি অভিনেত্রী মাইশা আবদ এলহাদির ওপর গুলি চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি সেনা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। ইসরাইলের হাইফা নগরীতে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেয়ার পর দেশটির সামরিক বাহিনী তার ওপর গুলি চালায়। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে তিনি হামলায় আহত হওয়ার খবর জানান। ‘অ্যাঞ্জেল’ তারকা হিসেবে পরিচিত মাইশা জানান, ইসরায়েলের হাইফায় প্রতিবাদ চলাকালে সামরিক বাহিনী তার ওপর গুলি চালায়।

তিনি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘রোববার আমি হাইফায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা স্লোগান দিচ্ছিলাম, গান করছিলাম, কণ্ঠ ব্যবহার করে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিক্ষোভে স্লোগান দিচ্ছিলাম এবং ঘটনার ভিডিও করছিলাম। বিক্ষোভ শুরুর কিছুক্ষণ পর সৈন্যরা স্টেন ও গ্যাস গ্রেনেড চালানো শুরু করে এবং আমি অনুধাবন করলাম, কিছু সময়ের মধ্যে সেগুলোর মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

‘আমি ফুটপাতে দাঁড়িয়েছিলাম, এমন জায়গায় যেটা আমার কাছে নিরাপদ বলে মনে হয়েছিল। আমি একা ছিলাম এবং আমি কারো জন্য হুমকির কারণ ছিলাম না। আমি আমার গাড়ির দিকে যেতে থাকি। এ সময় আমি আমার খুব কাছেই গুমোট আওয়াজ শুনতে পাই এবং আমি অনুভব করলাম, আমার জিনস ছিঁড়ে গেছে! এটাই আমার প্রথম অনুভূতি!’ যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি হাঁটার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। আমি বুঝতে পারলাম, আমার পা থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত বের হচ্ছে এবং আমার ত্বক ফেটে গেছে।’

দীর্ঘ এই পোস্টের শেষে মাইশা লেখেন, ‘পুলিশ ও দখলদার বাহিনী যেকোনো ফিলিস্তিনিকে নির্বিশেষে আক্রমণ কিংবা হত্যা করতে দ্বিধা করছে না, যদিও সে তাদের জন্য হুমকির কারণ হোক কিংবা না হোক। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলা প্রথমবার নয়। একজন ফিলিস্তিনি হিসেবে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, আমি প্রতিনিয়ত হুমকির মুখোমুখি হচ্ছি, তবে এবার তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা যুদ্ধের সম্মুখভাগে রয়েছি এবং একমাত্র ভাগ্যই আমাদেরকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।’

পূর্ব জেরুজালেমের আরব অধ্যুষিত এলাকা শেখ জাররাহ থেকে চারটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়িছাড়া করার এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিলিস্তিনি ও আরব ইসরায়েলিরা বিক্ষোভ শুরু করে। ওই ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো গত প্রায় ৭০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন, হঠাৎ করে কয়েকজন কট্টরপন্থী ইহুদি তার মালিকানা দাবি করে।

জেরুজালেম নগর কর্তৃপক্ষ ও শহরের একটি নিম্ন-আদালত সেই দাবি মেনে নিয়ে রায় দেয়ার পর বিক্ষোভ জোরালো হয়। এরই মধ্যে রোজার শুরুতে পুলিশ জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের ওপর কিছু বিধিনিষেধ বসালে পরিস্থিতির আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।