রবিবার,১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সুরা ইখলাসের ফজিলত

মুক্তখবর :
আগস্ট ১৬, ২০২১
news-image

সুরা আল ইখলাস কোরআনে কারিমের ১১২ নম্বর সুরা। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং শব্দ সংখ্যা ১৫টি, তাতে অক্ষর আছে ৪৭টি। এই সুরায় আল্লাহতায়ালার পরিচয় সবচেয়ে সুন্দর ও সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোরআনে কারিমের অন্যতম ছোট সুরা হিসেবে বিবেচিত। সুরা আল ইখলাসকে কোরআনে কারিমের তিন ভাগের এক ভাগ বলা হয়।

ইখলাস অর্থ গভীর অনুরাগ, একনিষ্ঠতা, নিরেট বিশ্বাস, খাঁটি আনুগত্য। শিরক থেকে মুক্ত হয়ে তাওহিদ তথা এক আল্লাহর ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলা হয়।

মক্কার কাফেররা হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল্লাহর বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, যার জবাবে এই সুরা নাজিল হয়। কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে, তারা আরও প্রশ্ন করেছিল, আল্লাহতায়ালা কীসের তৈরি? স্বর্ণ-রৌপ্য না অন্য কিছুর? এর জবাবে সুরাটি অবতীর্ণ হয়।

সুরা ইখলাসের ফজিলত : হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন সাহাবির নেতৃত্বে একদল সৈনিককে যুদ্ধে পাঠালেন। তিনি যুদ্ধের দীর্ঘ সময়ে শুধু সুরা ইখলাস দ্বারা নামাজ পড়িয়েছেন। সৈন্যরা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে নবী কারিম (সা.)-কে তা অবহিত করেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের বলেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করো কেন সে এরূপ করেছে। সেনাপতি তাদের বললেন, এ সুরায় আল্লাহর গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে বিধায় আমি এ সুরাকে ভালোবাসি। (উত্তর শুনে) নবী কারিম (সা.) সাহাবিদের বলেন, তোমরা তাকে গিয়ে বলো, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।সহিহ্ বোখারি : ৭৩৭৫

বিভিন্ন হাদিসে সুরা ইখলাসের আরও অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। এসব ফজিলতের অন্যতম হলো

বেহেশত লাভ : সুরা ইখলাস যিনি ভালোবাসবেন, তিনি জান্নাতে যাবেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাত হয়েছে, জনৈক সাহাবি নবী কারিম (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিরমিজি : ২৯০১

গোনাহ মাফ : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তবে ঋণ থাকলে তা মাফ হবে না। তিরমিজি : ২৮৯৮

দারিদ্র্য দূর : হজরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে দারিদ্র্যের অভিযোগ করল, নবী কারিম (সা.) তাকে বললেন, যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সুরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছুদিনের মধ্যে তার দারিদ্র্য দূর হয়ে যায়। কুরতুবি : ২০/১৮৫

বিপদে-আপদে উপকারী : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে, তাকে বালা-মুসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়। আবু দাউদ

সুরা ইখলাসের আমল : হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নিজ বিছানায় আসতেন, তখন তিনি তার উভয় হাতের তালুতে সুরা ইখলাস এবং সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে ফুঁ দিতেন। তারপর উভয় তালু দিয়ে আপন চেহারা ও দু’হাত শরীরের যতদূর পৌঁছায় ততদূর পর্যন্ত মাসাহ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন এরপর হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন অসুস্থ হন তখন তিনি আমাকে অনুরূপ করার নির্দেশ দিতেন। সহিহ্ বোখারি : ৫২২৪

আল্লাহই তার বান্দার জন্য যথেষ্ট : সুরা ইখলাসের দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহতায়ালা ‘সমাদ’ অমুখাপেক্ষী। ‘সমাদ’ বলা হয় এমন এক সত্তাকে যিনি সর্ব গুণাবলিতে পরিপূর্ণ। সব সৃষ্টি যার দিকে মুখাপেক্ষী। তিনি সবার থেকে অমুখাপেক্ষী। তার মৃত্যু নেই। তিনি কারও উত্তরাধিকারী নন। বরং আকাশ-জমিনের সব উত্তরাধিকার তার। তিনি না ঘুমান, না উদাসীন হন। তার নেতৃত্ব সর্বময়। জ্ঞানে প্রজ্ঞায়, ধৈর্যে ক্ষমতায়, সম্মানে। এক কথায় সব গুণাবলিতে তিনি মহান। তিনি এমন সত্তা, প্রয়োজনের সময় সব মাখলুক যার দিকে মুখাপেক্ষী হয়। আর তিনি একাই সবার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। সমাদ নাম বান্দার মধ্যে তার ক্ষমতা, সম্মান এবং সবকিছু থেকে তার অমুখাপেক্ষীতার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে বান্দার বিশ্বাস স্থির হয়ে যায়, আল্লাহই তার বান্দার জন্য যথেষ্ট। তিনি তার একান্ত গোপন বিষয় শোনেন। তার অবস্থানও লক্ষ্য করেন। সারা পৃথিবী মিলে তার কোনো ক্ষতি করতে চাইলে ততটুকুই পারবে যতটুকু তিনি নির্ধারণ করে রেখেছেন।